স্যাটেলাইট লাগানো কুমির উদ্ধার, বন্যপ্রাণী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর

এস এস সাগর

আপডেট : ১০:০৩ পিএম, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪ | ১৬৬

চিতলমারীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো কুমির উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাত ৮ টায় উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শৈলদাহ গ্রামের হাসমত আলী শেখের ছেলে মোঃ হাসান শেখের মৎস্য ঘের থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়। এদিন রাতে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকরাম হোসেন খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্যর কাছে হস্তান্তর করেছেন।

অবমুক্ত করা চারটি কুমিরের মধ্যে তিনটি সুন্দরবনের ভেতরে ঘোরাঘুরি করলেও এ কুমিরটি সুন্দরবন থেকে বের হয়ে মোংলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জের পানগুছি পিরোজপুরের কচা, শরনখোলার বলেস্বর নদী অতিক্রম করে মধুমতি নদী সংলগ্ন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার একটি পুকুরে অবস্থান করছিল।


চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইকরাম হোসেন বাগেরহাট টুয়েন্টিফোরকে বলেন, গবেষণা কাজে কুমিরের গতিবিধি ও আচরণ জানাতে গত ১৬ মার্চ স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে লোনা পানির চারটি কুমিরকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছিল। এদেরমধ্যে একটি কুমির প্রায় শত কিলোমিটার পথ ঘুরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শৈলদাহ গ্রামের হাসমত আলী শেখের ছেলে মোঃ হাসান শেখের মৎস্য ঘেরে গতকাল (১১ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার রাত থেকে অবস্থান করছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা কুমিরটি দেখার জন্য রাস্তায় ভীড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ কুমিরটিকে নিরাপদ হেফাজতে নেয়। শুক্রবার রাতে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্যর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বাগেরহাট টুয়েন্টিফোরকে বলেন, গত ১৩ মার্চ সর্বপ্রথম দুটি কুমির অবমুক্ত করা হয়েছিল। এরপর গত ১৬ মার্চ স্যাটেলাইট ট্যাগ বসিয়ে আরও একটি কুমিরের সঙ্গে এই কুমিরটিকেও অবমুক্ত করা হয়েছিল সুন্দরবনের হারবাড়িয়া পয়েন্টে। কুমিরের গায়ে স্যাটেলাইট ট্যাগ বসিয়ে নদীতে অবমুক্ত করার কাজটি যৌথভাবে করেছে বন বিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)। তাদের সহযোগিতা করছে জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিআইজেড)।

হাওলাদার আজাদ কবির আরও বলেন, সুন্দরবনের কুমির কোথায়, কীভাবে বিচরণ করে তা নিয়ে এর আগে বিস্তারিত কোনো গবেষণা হয়নি। আমরা প্রতি বছরই সুন্দরবনে কুমিরের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে অবমুক্ত করে থাকি। এ পর্যন্ত বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ কুমির সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের গতিবিধি ও পরবর্তীতে তারা কোথায় যায় সেসব গবেষণা কখনও করা হয়নি। সে কারণেই স্যাটেলাইট ট্যাগ বসিয়ে এই গবেষণাটি করা হচ্ছে।


খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য্য বাগেরহাট টুয়েন্টিফোরকে বলেন, কুমিরটিকে খুলনা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওখানে গিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত