মধু আহরণ মৌসুম ১ এপ্রিল থেকে শুরু, সুন্দরবনে ছুটছেন মৌয়ালরা

মাসুদ রানা, মোংলা

আপডেট : ১২:২৭ পিএম, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪ | ৯৮

শুরু হচ্ছে মধু আহলন মৌসুম, ১ এপ্রিল সোমবার থেকে বনবিভাগের পাস-পারমিট (অনুমতিপত্র) নিয়ে মধু সংগ্রহে জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মৌয়ালরা, এখন নেমে পড়ার পালা। জলযান হিসেবে নৌকা মেরামত শেষ করে সাথে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সোমবার থেকে সুন্দরবনের গহিনে যাবে মধু আহরণ করতে। দলবদ্ধভাবে মৌসুমের শুরু থেকেই বনের অভ্যান্তরে প্রবেশ করে মৌয়ালরা শুরু করবেন মধু আহরণের কর্মযজ্ঞ। তবে বন বিভাগ বলছে, মধু আহরণেল নামে হরিণ শিকার সহ বন্যপ্রানী পাচার ও কিটনাষক দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে সতর্কতা শুলকত সকল ব্যাবস্থা নিয়েছে বন বিভাগ।


বিভাগীয় বন কার্যলয় সুত্রে জানা যায়, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সুন্দরবনে মধু আহরণের মৌসুম ধরা হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র রক্ষায় আগে যেখানে মধু সংগ্রহের সময় সিমা নির্ধারণছিলো তিন মাস, সেখানে ২০২২ সাল থেকে এপ্রিল ও মে এ দুই মাস মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালদের পাস-পারমিট দিয়ে আসছে বন বিভাগ। এবারের মৌসুমে চাদঁপাই ও শরনখোলা রেঞ্জের প্রথম পর্যায় ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ কুইন্টাল মধু এবং ২০০ থেকে ২৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে গত বছর মধু না পাওয়ায় আহরণ হয়েছিল ৫৪১ কুইন্টাল মধু এবং ১৬১ কুইন্টাল মোম। মধু সংগ্রহের নিয়ম এবং বন আইনের নীতিমালা অনুসরণ করে ১ এপ্রিল সকাল থেকেই মৌয়ালদের পাস (অনুমতিপত্র) দেওয়া শুরু হবে।

তবে সুন্দরবনের পুর্ব ও পশ্চিম বিভাগে ১ হাজার ৫০০ কুইন্টাল মধু এবং ৪৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিভাগীয় বন কার্যলয় থেকে। এর আগে গত বছর ৩৬৫টি পাস নিয়ে ২ হাজার ৪৫০ জন মৌয়াল ১ হাজার ২২৫ কুইন্টাল মধু এবং ৩৬৭ দশমিক ৫ কুইন্টাল মোম আহরণ করেছিলেন, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয় ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা।

মধু আহরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া ঢাংমারী এলাকার নিতাই চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মৌসুমের শুরুতে খলিশা ফুলে মধু আসে, খলিশা ফুলের এ মধুটা বিশ্বের কাছে সব চেয়ে বেশী পরিচিত এবং দামও বেশী। এর ২০ থেকে ২৫ দিন পর আসে গরাণ ফুলের মধু। মৌসুমের শেষে আসে কেওড়া, গড়ান ও ছইলা ফুলের মধু। এই তিন প্রজাতির মধুর মধ্যে সবচেয়ে উন্নত ও দামি হচ্ছে খলিশার মধু। কারণ, খলিশা ফুলের মধুর মধ্যে কোন পানি বা মিশ্রিত থাকে না। মৌসুমের প্রথম ফুলের মধু যা একদম খাটি। এছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। মৌয়ালদের অভিযোগ, আগে বন বিভাগ তিন মাস (এপ্রিল, মে ও জুন) মধু আহরণের অনুমতি দিত। কিন্তু গত দুই বছর শুধু এপ্রিল ও মে মাসে মধু আহরণ করতে দিচ্ছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের প্রায় অর্ধেক এলাকায় মধু আহরণের অনুমতি দেয় না বন বিভাগ। এ কারণে আগের চেয়ে মধু আহরণের পরিমাণ বেশ কমে গেছে বলে জানান তারা।

মৌয়ালরা আরো জানান, গত বছর তাঁদের দলের প্রত্যেক সদস্য দুই মণ করে মধু পেয়েছিলেন। পাস সংগ্রহ, সরকারি রাজস্ব এবং লোক ও খাওয়া খরচ মিলিয়ে মৌসুমে তাদের একেকজনের খরচ হয় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর দুই মণ মধু বিক্রি করে একেকজন পেয়েছিলেন ৬০ হাজার টাকা। এ বছরও আশানুরূপ মধু পাবেন বলে মনে করছেন তারা। তবে মধু আহরণের জন্য প্রতি বহড়ে ৫-৭ জন লোক প্রয়োজন কিন্ত এ বছর লোক পাওয়া খবই সমস্যা হচ্ছে, কারণ সুন্দরবনে বাঘের প্রবনাতা বেশী ফলে ভয়ে এখন আর সুন্দরবনে লোক যেতে চায়না।

পূর্ব সুন্দরবনের মোংলার চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই ১৫ মার্চ থেকে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হয়ছ। চাঁদপাই ও শরনখোলা রেঞ্জে বনে তেমন ফুল না ফোটায় মৌয়ালরা পাশ নিয়ে লোকসান হবে বলে বনে জায়নী। আর এর মুল কারণ জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভারে পূর্ব সুন্দরবনের গাছে ফুল একটু দেরিতে আসে। তাই ১৫ মার্চ পাশ না দিয়ে ১ এপ্রিল থেকেই পাশ দেয়া হচ্ছে এবং সেই পাশ নিয়ে মৌয়ালরা বনে যাবেন। তবে অপরাধ মুলক কর্মকান্ডের জন্য বন রক্ষীরা পৃথক টিম গঠন করে টহলরত অবস্থায় সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত