শরণখোলা ইউএনও’র অফিস সহকারী রফিকের কাছে সবাই জিম্মি ! 

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা

আপডেট : ০৪:১০ পিএম, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪ | ৮৮

শরণখোলা ইউএনও’র অফিসসহকারী  রফিক

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের উচ্চমান সহকারী (অফিস সহকারী) মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সেবাগ্রহিতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়মে পরিণত পরিণত হয়েছে তার। নিজেকে বিশাল ক্ষমতাধর মনে করে সবার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন তিনি। সম্প্রতি তার অপসারণ এবং অভিযোগের তদন্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়ে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।


গত বহস্পতিবার (২১মার্চ) শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন আকন শান্ত, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রশিদ আকন, শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বদরুজ্জামান আবু গাজী, উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবুল দাস, রায়েন্দা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবুল তালুকদার এ অভিযোগ দাখিল করেন।


অভিযোগে জানা যায়, ইউএনও অফিসের উচ্চমান সহকারি রফিকুল ইসলাম শরণখোলায় যোগদানের পর থেকে তার আচারণে এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও কর্মীসহ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ সবাই অতিষ্ঠ। তিনি (রফিকুল) নিজেকে বিভাগীয় কমিশনারের কর্মচারি পরিচয় দিয়ে জনসাধারণকে সব সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। মাঝেমধ্যে এমনও বলেন, তাকে ইউএনও বা জেলা প্রশাসক কেউ কিছু করতে পারবে না।

এমনকি তার যোগদানের পর যে কয়জন ইউএনও শরণখোলায় দায়িত্ব পালন করেছেন তারাসবাই রফিকুল ইসলামের কুট কৌশলের কাছে নতজানু হয়েছেন। সব ইউএনওই তার কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে থেকেছেন। এছাড়া বাজারের কেনাকাটা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা যদি তাকে স্যার বলে সম্বোধন না করেন তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন।

অভিযোগে আরো জানা যায়, অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম বীর নিবাস পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন করেছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের দায়ের করা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দায়ের করা আরেকটি অভিযোগের তদন্ত করেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু তিনি নানা কৌশলে ওই তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অফিস সুত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ইতিপূর্বে ঘুষ-দুর্নীতির দায়ে বিভাগীয় মামলায় দোষীসাভ্যস্ত হন। পরবর্তিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অপিল করলে মানবিক কারনে তাকে বরখাস্ত না করে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে দূরবর্তীস্থান হিসেবে প্রেষনে শরণখোলায় পাঠানো হয়।


শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন আকন শান্ত বলেন, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষ অভিযোগ নিয়ে আসে। তার সেচ্ছাচারিতায় সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি কাউকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন না। তাকে অবিলম্বে এখান থেকে বদলি করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার দপ্তরে করা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার একটি অভিযোগ আমার কাছে তদন্তের জন্য দিয়েছিল। সেটির তদন্ত হয়েছে। এখন প্রতিবেদন দেওয়ার অপেক্ষায় অছে।


এব্যপারে জানতে চাইলে উচ্চমান সহকারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত