মুনিগঞ্জ-ভাতছালা নির্মানাধীন বাঁধে ফাটল, জোরপূর্বক মাটি নেওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার

আপডেট : ১০:৫১ পিএম, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩ | ৫০১

নির্মান শেষ হওয়ার আগেই বাগেরহাট সদর উপজেলার ভাতছালা-মুনিগঞ্জ বেরিবাঁধে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। কয়েক জায়গা ধ্বসও গেছে নির্মানাধীন এই বাঁধটির। বাঁধ নির্মানে বালু এবং নদীর চরের বালু মাটির ব্যবহার ও বাঁধের কাছ থেকে মাটি নেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাজ শেষের আগেই বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন এই বাঁধের স্থায়ীত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া জোরপূর্বক মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি নিয়ে বাঁধ নির্মান করায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বাগেরহাট কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ভৈরবের পানি থেকে মুনিগঞ্জ-ভাতছালাবাসীকে রক্ষার জন্য ষাটের দশকে নাজিরপুর উপ-প্রকল্পের অধীনে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। ঝড়-জলচ্ছাস ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাঁধটি বেশ নিছু হয়ে গেছে। যার ফলে গেল কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে অমাবস্যা-পূর্ণিমা তিথিতে নদীর পানি উপচে মুনিগঞ্জ, ভাতছালা, ভদ্রপাড়া ও চরগ্রাম প্লাবিত হত। স্থানীয়দের দূর্ভোগ লাঘবে গেল বছরের নভেম্বরে ভাতছালা থেকে মুনিগঞ্জ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই বাঁধটি সংস্কার শুরু করে পাউবো। ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পূর্বের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফিট উঁচু করা হবে বাঁধটি। জরুরি ভিত্তিতে ডিপিএম (সরাসরি ক্রয়) পদ্ধতিতে ঠিকাদার শেখ শহিদুল ইসলাম এই কাজ বাস্তবায়ন করছেন। চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে বাঁধের পুরো কাজ শেষ করতে প্রকল্পের সময় কিছুটা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর এক কর্মকর্তা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বালুর ব্যবহার করা হয়েছে। চরগ্রামের আবুল বাশারের বাড়ির অদূরে ধ্বসে গেছে। ফাটল ধরেছে কয়েক জায়গায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাঁধের একদম গোড়া থেকে (বাঁধ লাগোয়া) ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর করে মাটি খুড়ে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে বৃষ্টি ও জলোচ্ছাসে বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জোরপূর্বক বাঁধের দুই পাশে স্থানীয়দের বাড়ির উঠোন, বাগান ও ধানি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি নেওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। অতিরিক্ত গভীর করে মাটি নেওয়ায় স্থানীয় ফাতেমা জান্নাতের ভবনের সামনের উঠোনো ফাটল ধরেছে। অনেকের গাছ ও মাটি ধ্বসে গেছে। এই বাঁধ সংস্কার ও পুনঃ নির্মান কাজের কোন তথ্য তাদের জানানো হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাঁধের জন্য স্থানীয় বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য আসাদুজ্জামান মোহন, তার চাচাতো ভাই সুমন, চরগা গ্রামের ছোটসহ কয়েকজন জোর পূর্বক মাটি দিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এসব কারণে স্থানীয়দের মাঝে দারুণ ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চরগ্রাম গ্রামের শাহ জাহান শেখ বলেন, বাঁধের এক দোম গোড়া থেকে মাটি কাটিছে। এই বাঁধ টেকবে কি করে? নদীর পাড়, চর কাইটে নিয়ে আসতিছে। সেই মাটি-বালি দিয়ে বাঁধ করলে, কোন দিন থাকবে না। কয়েক জাগায় দেখেন পুরো বালি, কাঁদা মাটি দিয়ে বাঁইধে গেছে। নদীর পাশের বাঁধের গোড়ার দে মাটি নিছে। পানির চাপ দিলি তো এক বারে ধইসে নদীতে চলে যাবে। এগুলো দেখা কেউ নেই।


চরগ্রাম গ্রামের আবুল কালাম গাজী বলেন, বালি দেওয়ায় দুই তিন জায়গায় ডেবে গেছে। বড় বড় গর্ত করে মাটি তোলায় অনেক জায়গায় ফাঁটল ধরছে। দেখবেন একটু বৃষ্টি হলে বাঁধও ধ্বসে যাবে।


স্থানীয় ফাতেমা জান্নাত বলেন, নিষেধ করার পরেও, নিষেধ করা স্বত্তেও বাড়ির সামনে থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়েছে। অতিরিক্ত গভীর করায়, মাটি ধ্বসে একটি নারকেল গাছসহ কয়েকটি গাছ পড়ে গেছে। এছাড়া আমার ভবনের সামনের উঠোনো ফাটল ধরেছে। ফাটল ধরা জায়গা থেকে মাটি ধ্বসে গেলে আমার ভবনও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, সরকারি কজের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে সাইনবোর্ড থাকবে, কাজের সব তথ্য এলাকাবাসীকে জানানো হবে। কিন্তু এই বাঁধ নির্মান কাজের কোন তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। এমনকি শিডিউল সম্পর্কে এলাকার মানুষকে জানানো হয়নি। এলাকার অনেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে গেছে, কাউকে শিডিউল দেখানো হয়নি।


স্থানীয় ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়া মো. মারুফ হোসেন ফকির ওরফে ছোট বলেন, এই রাস্তাটা আমাদের খুব দরকার ছিল। স্থানীয় মোহন মেম্বর বলায় আমি আগা-মাথা মাটি কাটার সময় সাথে ছিলাম। সবাই সেচ্ছায় এই কাজের জন্য মাটি দিচ্ছে। কাউকে চাপ দেওয়া হয়নি। মেম্বর বলেছে চারফুট উঁচু রাস্তা হবে। তবে কাজ যেভাবে হচ্ছে- রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে, তাতে অনেক জাগয়া দিয়েই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাঁধ নির্মাণের ঠিকাদার শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ২২ বছর পর এই বাঁধের সংস্কার হচ্ছে। এটা ইমারজেন্সি কাজ। এখানে মাটি কিনে নেওয়ার কোন বরাদ্দ সিডিউলে নেই। গ্রামবাসীর সহযোগীতায় আমরা কাজটা করছি।


পাউবো বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, দরপত্র অনুযায়ী এই বাঁধটা ৩ দশমিক ৫ লেভেলে হবে। যাতে কোথাও দুই ফুট, কোথাও চার ফুট উঁচু হবে। জরুরি ফান্ড থেকে এই কাজটি করা হচ্ছে। দরপত্রে বলা আছে, মাটি ও লোকাল ম্যাটেরিয়াল দিয়ে দিয়ে কাজটি করতে হবে। এর জন্য জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের কোন সংস্থান আমাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, বাঁধে বালুর ব্যবহার করা যাবে। তবে মাটির পরিমানই বেশি থাকবে। বালুটা আমরা মাঝেই দেই। তবে চেষ্টা করি যত কম দেওয়া যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), বাগেরহাট কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, ভৈরবের পানি থেকে মুনিগঞ্জ-ভাতছালাবাসীকে রক্ষার জন্য ষাটের দশকে নাজিরপুর উপ-প্রকল্পের অধীনে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। ঝড়-জলচ্ছাস ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বাঁধটি বেশ নিছু হয়ে গেছে। যার ফলে গেল কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে অমাবস্যা-পূর্ণিমা তিথিতে নদীর পানি উপচে মুনিগঞ্জ, ভাতছালা, ভদ্রপাড়া ও চরগ্রাম প্লাবিত হত। স্থানীয়দের দূর্ভোগ লাঘবে গেল বছরের নভেম্বরে ভাতছালা থেকে মুনিগঞ্জ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই বাঁধটি সংস্কার শুরু করে পাউবো। ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পূর্বের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফিট উঁচু করা হবে বাঁধটি। জরুরি ভিত্তিতে ডিপিএম (সরাসরি ক্রয়) পদ্ধতিতে ঠিকাদার শেখ শহিদুল ইসলাম এই কাজ বাস্তবায়ন করছেন। চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, মাত্র ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে বাঁধের পুরো কাজ শেষ করতে প্রকল্পের সময় কিছুটা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন পাউবোর এক কর্মকর্তা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বালুর ব্যবহার করা হয়েছে। চরগ্রামের আবুল বাশারের বাড়ির অদূরে ধ্বসে গেছে। ফাটল ধরেছে কয়েক জায়গায়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাঁধের একদম গোড়া থেকে (বাঁধ লাগোয়া) ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর করে মাটি খুড়ে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে বৃষ্টি ও জলোচ্ছাসে বাঁধ ধ্বসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জোরপূর্বক বাঁধের দুই পাশে স্থানীয়দের বাড়ির উঠোন, বাগান ও ধানি জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি নেওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। অতিরিক্ত গভীর করে মাটি নেওয়ায় স্থানীয় ফাতেমা জান্নাতের ভবনের সামনের উঠোনো ফাটল ধরেছে। অনেকের গাছ ও মাটি ধ্বসে গেছে। এই বাঁধ সংস্কার ও পুনঃ নির্মান কাজের কোন তথ্য তাদের জানানো হয়নি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাঁধের জন্য স্থানীয় বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য আসাদুজ্জামান মোহন, তার চাচাতো ভাই সুমন, চরগা গ্রামের ছোটসহ কয়েকজন জোর পূর্বক মাটি দিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এসব কারণে স্থানীয়দের মাঝে দারুণ ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চরগ্রাম গ্রামের শাহ জাহান শেখ বলেন, বাঁধের এক দোম গোড়া থেকে মাটি কাটিছে। এই বাঁধ টেকবে কি করে? নদীর পাড়, চর কাইটে নিয়ে আসতিছে। সেই মাটি-বালি দিয়ে বাঁধ করলে, কোন দিন থাকবে না। কয়েক জাগায় দেখেন পুরো বালি, কাঁদা মাটি দিয়ে বাঁইধে গেছে। নদীর পাশের বাঁধের গোড়ার দে মাটি নিছে। পানির চাপ দিলি তো এক বারে ধইসে নদীতে চলে যাবে। এগুলো দেখা কেউ নেই।


চরগ্রাম গ্রামের আবুল কালাম গাজী বলেন, বালি দেওয়ায় দুই তিন জায়গায় ডেবে গেছে। বড় বড় গর্ত করে মাটি তোলায় অনেক জায়গায় ফাঁটল ধরছে। দেখবেন একটু বৃষ্টি হলে বাঁধও ধ্বসে যাবে।


স্থানীয় ফাতেমা জান্নাত বলেন, নিষেধ করার পরেও, নিষেধ করা স্বত্তেও বাড়ির সামনে থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়েছে। অতিরিক্ত গভীর করায়, মাটি ধ্বসে একটি নারকেল গাছসহ কয়েকটি গাছ পড়ে গেছে। এছাড়া আমার ভবনের সামনের উঠোনো ফাটল ধরেছে। ফাটল ধরা জায়গা থেকে মাটি ধ্বসে গেলে আমার ভবনও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, সরকারি কজের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে সাইনবোর্ড থাকবে, কাজের সব তথ্য এলাকাবাসীকে জানানো হবে। কিন্তু এই বাঁধ নির্মান কাজের কোন তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। এমনকি শিডিউল সম্পর্কে এলাকার মানুষকে জানানো হয়নি। এলাকার অনেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসে গেছে, কাউকে শিডিউল দেখানো হয়নি।


স্থানীয় ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়া মো. মারুফ হোসেন ফকির ওরফে ছোট বলেন, এই রাস্তাটা আমাদের খুব দরকার ছিল। স্থানীয় মোহন মেম্বর বলায় আমি আগা-মাথা মাটি কাটার সময় সাথে ছিলাম। সবাই সেচ্ছায় এই কাজের জন্য মাটি দিচ্ছে। কাউকে চাপ দেওয়া হয়নি। মেম্বর বলেছে চারফুট উঁচু রাস্তা হবে। তবে কাজ যেভাবে হচ্ছে- রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে, তাতে অনেক জাগয়া দিয়েই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাঁধ নির্মাণের ঠিকাদার শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ২২ বছর পর এই বাঁধের সংস্কার হচ্ছে। এটা ইমারজেন্সি কাজ। এখানে মাটি কিনে নেওয়ার কোন বরাদ্দ সিডিউলে নেই। গ্রামবাসীর সহযোগীতায় আমরা কাজটা করছি।


পাউবো বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, দরপত্র অনুযায়ী এই বাঁধটা ৩ দশমিক ৫ লেভেলে হবে। যাতে কোথাও দুই ফুট, কোথাও চার ফুট উঁচু হবে। জরুরি ফান্ড থেকে এই কাজটি করা হচ্ছে। দরপত্রে বলা আছে, মাটি ও লোকাল ম্যাটেরিয়াল দিয়ে দিয়ে কাজটি করতে হবে। এর জন্য জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের কোন সংস্থান আমাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, বাঁধে বালুর ব্যবহার করা যাবে। তবে মাটির পরিমানই বেশি থাকবে। বালুটা আমরা মাঝেই দেই। তবে চেষ্টা করি যত কম দেওয়া যায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত