বাগেরহাটে ঝড়ে দুই শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্থ, ড্রেজারসহ ২টি ট্রলার ডুবি

স্টাফ রিপোর্টার

আপডেট : ০৮:০২ পিএম, মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ | ৩২০৫

বাগেরহাটে মঙ্গলবার সকালে আকস্মিক কাল-বৈশাখী ঝড়ে সদরসহ ৫টি উপজেলায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ী বিধ্বস্থ হয়েছে। ঘর ও গাছ চাপায় বাগেরহাট সদরের খানপুরে আহত হয়েছে ৮ জন। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি ট্রলারসহ মোংলার পশুর নদীর বিদ্যারবাহন খেয়াঘাট এলাকায় ডুবে গেছে একটি ড্রেজার। বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা শত-শত গাছপাল ভেঙ্গে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুটি উপড়ে ও তার ছিড়ে পড়ায় চারটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাল-বৈশাখী ঝড় ও দিনভর বৃষ্টিতে সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি পল্লীর প্রায় অর্ধকোটি টাকা মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। শতাধিক জেলেঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করতে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

ঝড়ে আহতরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের শেখ জাকির হোসেন (৫২), মাদরাসা ছাত্র ফরিদ হোসেন (১৩), মা সাফিয়া বেগম (২৪) মেয়ে রাফমিন (৪), ময়না (১৫), লাকি বেগম (৩২), হাবিব (৪৮) ও আফরিনা (৩৫)।

সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে, বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালি, সদর উপজেলার খানপুর, ষাটগম্বুজ, কাড়াপাড়া, ডেমা, বেমরতা ও রাখালগাছি ইউনিয়ন। খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দীন বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, প্রবল বর্ষণ ও শিলা বৃষ্টির সাথে কাল বৈশাখী ঝড়ে দক্ষিণ ও উত্তর খানপুর গ্রামের অন্তত ৫০ কাঁচাপাকা বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘর ও গাছ চাপা পড়ে শিশু নারীসহ ৮ জন হয়েছেন। তাদের বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলায় ২ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়িসহ শত-শত গাছপালা পড়ে গেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল আহমেদ মোবাইল ফোনে বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে দুবলার চরের আলোরকোল, মেহেরআলীর চর, নারকেলবাড়িয়া, অফিস কিল্লা ও মাঝের কিল্লা শুঁটকি পল্লীর প্রায় ৫০ লাখ টাকার শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ে শতাধিক জেলেদের থাকার ঘর এবং শুঁটকির গুদাম বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রস্তুতকৃত অনেক শুঁটকিও ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বহদ্দার-জেলেরা মারাত্মক লোকসানে পড়বে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের আলোরকোল কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. রাফিক বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে জানান, মোংলার পশুর নদীর বিদ্যারবাহন খেয়া ঘাট এলাকায় ড্রেজারটি প্রচন্ড ঝড়ে পড়ে কাত হয়ে ডুবে গেছে। বঙ্গোপসাগরে শুঁটকি মাছ আহরণের সময় সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি ট্রলার ডুবির খবর পাৗয়া গেছে। ঝড়ে শুঁটকি পল্লীর অনেক মাছ নষ্টসহ জেলেদের বহু ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলার দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. নাজমুল হাসান বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি অসংখ্য ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট ও রুপসা উপজেলায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আমাদের একাধিক দল বিদ্যুৎ সংযোগের মেরামত কাজে মাঠে নেমেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আফতাব উদ্দীন বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে কৃষির তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত