শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মোংলা বন্দরের কর্মচারী বরখাস্ত, সরকারি বাসা বাতিলের নির্দেশ
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে তার প্রতিবেশী (পাশের ফ্লাটের) শিশুকন্যাকে অশালীন নির্যাতন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে তার অনুকূলে বরাদ্দকৃত সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাটও। নৃশংস এই ঘটনার পর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পৃথক দুটি অফিস আদেশে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে বন্দরের সংশ্লিষ্প কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মচারীর ইয়ার মোঃ সুমির বন্দরের (আইসি নং-২৯৮৭)। তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল অ্যান্ড হাইড্রোলিক্স বিভাগের সিনিয়র আউটডোর অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় মোংলা থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলা সুত্রে ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার অ্যান্ড কনজারভেন্সি বিভাগের কর্মকর্তার শিশুকন্যাকে নির্যাতনের শিকার হলে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ও বন্দরের চেয়ারম্যান বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মেলে। পরে বিষয়টি বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অবহিত করলে এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯১’-এর প্রবিধি ২(ক) ও প্রবিধি ৩৯(খ) অনুযায়ী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত করে ইয়ার মোঃ সুমিরকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
রবিবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফ বিল্লাহ স্বাক্ষরিত প্রবিধানমালার ৪৫(৫) নম্বর প্রবিধি অনুযায়ী বরখাস্তের এই নির্দেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়, বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বিধি মোতাবেক কেবল খোরাকী ভাতা পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।
এদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের অপর এক আদেশে অভিযুক্তের নামে বরাদ্দ থাকা সরকারি আবাসিকের ওপরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্পত্তি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামান স্বাক্ষরিত এক আদেশে স্থায়ী বন্দর মাধবী আবাসিক এলাকার ‘এইচ-২/৬’ নম্বর ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়।
চিঠি জারির তারিখ থেকে আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ফ্ল্যাটটি খালি করে কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাসা খালি না করলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
অভিযুক্ত ইয়ার মোঃ সুমিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি পলাতক থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফ বিল্লাহ জানান, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি বরাদ্দকৃত আবাসিক বাসা বাতিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, বন্দরের এক কর্মকর্তার শিশু কন্যার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার পর পরই আমাদের টিম আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে কাজ করছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। খুব শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ও বাসা বাতিলে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হলেও, এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি তুলেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মরত কর্মচারীরা। এছাড়া এলাকার সাধারণ অধিবাসী ও সচেতন নাগরিকেরা এর শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
