সুন্দরবনে গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধ
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে দুর্ধর্ষ ডাকাত দল ‘দাদা ভাই বাহিনী’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় ডাকাতদের গুলিবর্ষণের মুখে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জিম্মি থাকা ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং অস্ত্র ও কার্তুজ জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বর্তমানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন এবং অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড নামক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন সুন্দরবনের আরপাঙ্গাসিয়া নদীর কঞ্চির খাল এলাকায় দুর্ধর্ষ ‘দাদা ভাই বাহিনী’ মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে।
তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও দোবেকী যৌথভাবে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল অতর্কিতভাবে সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করেন। কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ডাকাত দল জিম্মিদের ফেলে রেখে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যায়। ফলে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জিম্মি থাকা ৫ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন: রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বিল্লাল হোসেন (২৬) উভয়ের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায়।আলাউল ইসলাম (৩২),নওশেন মোড়ল (৪১) ও শাহিনুর রহমান (২৮) তিনজনের বাড়ি খুলনার কয়রা থানায়।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ১টি একনলা বন্দুক, ৬ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ৩টি দেশীয় ধারালো অস্র জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দকৃত অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, উদ্ধারকৃত জেলেদের নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
