মধুমতির ভাঙনে হুমকিতে মোল্লাহাট, স্থায়ী বাঁধের দাবি
01/01/1970 12:00:00শেখ শাহিনুর ইসলাম শাহিন মোল্লাহাট
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই অস্তিত্বসংকটে পড়ছে নদী তীর বর্তী জনপদ। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও রাস্তাঘাট। ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নতুন করে ঝুঁকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, কবরস্থান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
অন্যদিকে, নদীর নাব্যতা সংকট ও নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সুরক্ষা এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন চললেও কার্যকর ও টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে কৃষিজমি ও বসতভিটা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে। এ অবস্থায় সোনাপুরা, চর আটজুড়ী, গিরিশনগর, গাড়ফা, উদয়পুর, আস্তাইল ও সিঙ্গাতী গ্রামকে ভাঙন প্রতিরোধের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
মধুমতি নদীর ভাঙন এখন শুধু বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। নদীগর্ভে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ এবং স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদী তীর বর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বহু পরিবার জীবিকা সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবা গ্রহণেও দুর্ভোগ বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, বালুর বস্তা ফেলা কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদীর স্রোত, তীরের মাটির গঠন ও ভাঙনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
স্থানীয় এক ইউপি সদস্য লিটন বলেন, “প্রতিদিন নদী ভাঙছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ঘরবাড়ি, জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
তাঁর মতে, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে জানিয়ে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, “বিষয়টি আমি এবং আমাদের ডিসি স্যার অবগত আছেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।”
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, মোল্লাহাটের গাড়ফা বাজার ও সোনাপুরা অংশের নদীভাঙন রোধে ১৪২০ মিটার (প্রায় দেড় কিলোমিটার) বাঁধ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তবে এই মুহূর্তে মধুমতি নদী খননের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
