মোরেলগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৫ দোকান, ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা
01/01/1970 12:00:00মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা
মোরেলগঞ্জে দুর্বৃত্তদের আগুনে পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারের সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানমালিক ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, সাবেক সেনা সদস্য খান মজিবুর রহমানের মালিকানাধীন পাঁচটি দোকানে আগুন লাগে। ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে মুসল্লিরা আগুন দেখতে পেয়ে পানি ঢেলে নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দোকানগুলোর মধ্যে একটি মুদি দোকান রয়েছে। বাকি তিনটি ভাড়া দেওয়া ছিল এবং একটি খালি ছিল। ভাড়াটিয়া নূরুল আমিন শিকদার রিকশার গ্যারেজ ও পুরোনো মালামালের ব্যবসা করতেন। আগুনে তাঁর প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। আরেক ভাড়াটিয়া মো. মজুমদার ‘রোহান ফার্মেসি’ নামে ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি জানান, তাঁর দোকানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ওষুধ ছিল, যা আগুনে পুড়ে গেছে। ভাড়াটিয়া মো. শাহিনের চা, পান, সিগারেট ও আইসক্রিমের দোকানের প্রায় দুই লাখ টাকার মালামালও পুড়ে গেছে।
শাহিন বলেন, রাত ২টার দিকে মাছ ধরে দোকানের সামনে থেকে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বাড়ি যাওয়ার সময় তিনি আগুনের কোনো আলামত দেখেননি।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পঞ্চকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কারা আগুন দিয়ে পাঁচটি পরিবারকে পথে বসিয়েছে, তা তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
দোকানমালিক খান মজিবুর রহমানের মেয়ে মেহেবুবা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর তাঁদের দোকানঘরগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁদের ২৫ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। দোকানগুলো পুড়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কচুয়া ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. জাফর মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা আগুন দেখতে পান এবং পানি দিয়ে তা নিভিয়ে দেন। তদন্ত ছাড়া আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
