সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, দুই জেলে আটক ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনের খালে বিষ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে জাল ও মাছসহ দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে বন বিভাগের কাছে তাদের সোপর্দ করা হলে বন বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও জরিমানা আদায় করে। তবে কীটনাশক পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রের অভাবের কারণে মাছে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি আইনগতভাবে শতভাগ নিশ্চিত করা নিয়ে থেকে গেছে দীর্ঘদিনের জটিলতা দেখা দেয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকালে সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার চিলা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত দুই জেলে হলো-খুলনার দাকোপ উপজেলার খেজুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বাসুদেব মণ্ডল (৫৫) ও স্বপন মণ্ডল (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকালে মোংলার চিলা নদীতে একটি নৌকায় সুন্দরবন থেকে ধরে আনা মাছে বরফ দিচ্ছিলেন ওই দুই জেলে। এ সময় তাদের গতিবিধি ও মাছের অবস্থা দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে বিষ দিয়ে শিকার করা মাছ ও নিষিদ্ধ জাল দেখতে পান এবং দুই জেলেকে আটক করে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই ও করমজল স্টেশন থেকে বন বিভাগের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বনকর্মীরা নৌকাটি তল্লাশি করে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় আড়াই মণ মাছ এবং একটি নিষিদ্ধ খালপাটা জাল জব্দ করে।
পূর্ব সুন্দরবনের করমজল স্টেশন কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নৌকা, মাছ ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেন। পরবর্তীতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও বেআইনিভাবে মাছ শিকারের অপরাধে ওই দুই জেলের বিরুদ্ধে সিওআর মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশনা ও বন আইন অনুযায়ী তাদের মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জব্দকৃত অবৈধ খালপাটা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এদিকে চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা জানান, বন বিভাগের কাছে কীটনাশক বা বিষ পরীক্ষার কোনো আধুনিক যন্ত্র বা পরীক্ষাগার না থাকায় জব্দকৃত মাছে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে অবৈধ পাটা জ্বাল পাওয়া গেছে।
পরিবেশবিদ মতে, সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলের খালে বিষ প্রয়োগ করলে কেবল মাছই নয়, বরং জলজ বা অন্যান্য প্রাণী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষাক্ত পানি ভাটার টানে ছড়িয়ে পড়লে জলজ জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীদের স্বাভাবিক প্রজননপ্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের অপরাধ কঠোরভাবে দমন করতে এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণ নিশ্চিত করতে দ্রুত আধুনিক পরীক্ষাব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা ও সচেতন মহল।
