মোংলায় পরকীয়ার অভিযোগে শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায়ের বদলি, শিক্ষাঙ্গনে তোলপাড়
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীর অভিভাবক এক নারীর সাথে পরকীয়া ও অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে তড়িঘড়ি করে অন্য বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে বদলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকের এমন অনৈতিক ও অপেশাদাররসুলভ আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মোংলা উপজেলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহলসহ সর্বস্তরের সচেতন মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায় বুড়িরডাঙ্গা শানবান্ধ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বর্তমানে বুরবুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যায় নিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে তাকে আরো একবার অন্যাত্র বদলী করা হয়েও কৌশলে তিনি সেই একই বিদ্যালয় নিযুক্ত হন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে প্রসেনজিৎ রায় মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের শানবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে শিক্ষকতার আড়ালে তিনি কোচিং সেন্টার খোলা সহ বিভিন্ন অনৈতিক ও অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, শানবান্ধা স্কুলে যোগদানের পর থেকেই প্রসেনজিৎ রায় স্কুল ছুটির পর প্রাইভেট টিউশনের নাম করে তার এক সহকর্মী নারী শিক্ষিকার সাথে পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিষয়টি শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে স্কুলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই সময় স্থানীয় ও সহকর্মীদের চাপের মুখে কিছুদিন তাদের এই অনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
সহকর্মী শিক্ষিকার সাথে প্রেমের সম্পর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায় নতুন করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। এবার তিনি তার নিজের স্কুলেরই এক কোমলমতি শিক্ষার্থীর মায়ের (অভিভাবক) সাথে পরকীয়া প্রেমে মেতে ওঠেন। এই ঘটনাটি প্রসেনজিৎ রায়ের পরিবার এবং তাঁর স্ত্রীর গোচরীভূত হলে পারিবারিক অশান্তি চরম রূপ নেয়। স্বামীর এমন প্রকাশ্য চারিত্রিক স্খলন ও অনৈতিক কর্মকান্ড সহ্য করতে না পেরে, অবশেষে শিক্ষকের নিজের স্ত্রী মোংলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
শিক্ষকের স্ত্রীর দেয়া অভিযোগ পাওয়ার পর এবং বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাশ তড়িঘড়ি করে এক আদেশে গত ১৪ জুলাই অভিযুক্ত শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায়কে শানবান্ধা স্কুল থেকে সরিয়ে সুন্দরবন ইউনিয়নের বুরবুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে (সংযুক্তিতে) বদলি করেন।
স্থানীয়রা জানান, সহকারী শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায় বর্তমানে মোংলার সোনাইলতলা জয়খাঁ এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন। সেখানেও তিনি ছাত্রজীবনে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেছিলেন।
স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, প্রসেনজিৎ সেখানে যোগদান করলেও তিনি বর্তমান কর্মস্থলে মন না দিয়ে পুনরায় তাঁর পুরনো কর্মস্থল শানবান্ধা স্কুলে ফেরার জন্য অদৃশ্য খুঁটির জোরে জোর তদবির ও জোরতোর শুরু করেছেন। তাঁর এই তদবিরের খবরে শানবান্ধা স্কুলের শিক্ষক ও সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এসব অনৈতিক ও পরকীয়ার গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক প্রসেনজিৎ রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্কুলে কোচিং সেন্টারের কথা অংশিক স্বীকার করলেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্য সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, স্কুলে কোচিং করানো বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে চালানো হয়েছে। আর তার স্ত্রী তাকে না জেনে সন্দেহ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়া একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এব্যাপারে অভিযোগকারী প্রসেজিতের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেছি সত্য, কিন্ত এ ব্যাপারে কোন সংবাদ প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানায়।
অন্যদিকে, মোংলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাশ বিষয়টিকে নিয়ে বার বার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন কথা বলথে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা ঘটনাটি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বলেন, উক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর উপজেলা শিক্ষা অফিসে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুনাম বজায় রাখতে প্রসেনজিৎ রায়কে সাময়িকভাবে বুরবুড়িয়া স্কুলে ডেপুটেশনে বদলি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে, অনৈতিকতার অভিযোগ সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
