মোংলা-শরণখোলায় গ্রাম আদালত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সভা
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে গ্রাম আদালত বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্প্রতি মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউপি (২১ সেপ্টেম্বর), বুড়িরডাঙ্গা ইউপি (২২ সেপ্টেম্বর) এবং শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউপিতে (২৩ সেপ্টেম্বর) এ সভাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ নিজ নিজ ইউপির সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় গ্রাম আদালত পরিচালনা এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার উপায় তুলে ধরে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মোংলা উপজেলার সমন্বয়কারী সুশান্ত রায়। তিনি বলেন, "স্বল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে বিচার পাওয়ার জন্য গ্রাম আদালতের কোনো বিকল্প নেই। সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং রক্তপাতহীন ছোটখাটো যেকোনো সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে এখানে অভিযোগ দায়ের করা যায়।"
গ্রাম আদালত গঠনের নিয়ম ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, আবেদনকারী ও প্রতিবাদীর মনোনীত প্রতিনিধি এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে ৫ সদস্যের আদালত গঠিত হয়। আদালত গঠনের ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন বসে। আদালতের সিদ্ধান্ত যদি সর্বসম্মতিক্রমে (৫:০) বা ৪:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য কোনো উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকে না। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে আইনি লড়াইয়ের জন্য কোনো উকিল নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। তাই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অযথা মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে অর্থ ও সময় নষ্ট না করে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যানগণ গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। সাধারণ মানুষ যেন উচ্চ আদালতে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে ন্যায়বিচার পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
