মোরেলগঞ্জে গৃহবধু হত্যার অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00 মোরেলগঞ্জ সংবাদদাতা
মোরেলগঞ্জে উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামে এক গৃহিনীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি আত্মহত্যা নয় পরিকল্পিতভাবে স্বামীর নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রহমানকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সোয়া ১১টার দিকে তাৎক্ষনিক থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করেছেন।
জানাগেছে, অত্র গ্রামের জয়নাল খানের ছেলে ভ্যান চালক রহমান খানের সাথে জিউধরা ইউনিয়নের সোমাদ্দারখালী গ্রামের ইউনুছ হাওলাদারের মেয়ে রুমানার (২৪) সাথে ১৫ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই নেশাখোর স্বামী বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের স্বিকার হয় গৃহিনী। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালীশ বৈঠক হলেও পরিবারিক কলহ চলে আসছে। ঘটনারদিন বুধবার সকালে স্বামীর গৃহে স্ত্রী রুমানকে গলায় রশী দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে স্বামী নিজেই লাশ নিয়ে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে ছুটে আসেন । পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে । এদিকে হাসপাতালে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে গোটা হাসপাতাল ।
রুমানার বেগমের পিতা ইউনুছ হাওলাদার, বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ছোট বোন রাবেয়া আক্তার, ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, বিবাহের পর থেকেই স্বামী রুমানার ওপর মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালীশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। আমার মেয়েকে গলাটিপে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। ওর স্বামী দীর্ঘ বছর ধরে নেশাখোর। এটি আত্মহত্যা নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে রহমান খানের দৃষ্টাস্তমূলক বিচার চাই। নিহত রুমানার ৪ বছরের এক ছেলে রায়হান ও ১৩ বছরের মেয়ে হালিমা ইয়াসমিন রুকাইয়া রয়েছে।
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়া হক বলেন, গৃহিনী রুমানাকে মৃত. অবস্থায় তার স্বামী সহ আর ২ জন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে প্রাথমিক তদন্ত করছে।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, গৃহিনীর আত্মহত্যার খবর শুনে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তদস্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রহমান খানকে থানায় আনা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের রির্পোট না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না এটি হত্যা কিনা। থানায় একটি অপমৃত. মামলা দায়ের হয়েছে।
