Logo
table-post
মোংলায় চুরির আতঙ্ক, পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোয়ারার অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00

মাসুদ রানা,মোংলা 

বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের আঁধারে বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ভেঙে মূল্যবান সামগ্রী, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের বিরুদ্ধে। চুরির আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দাকে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে এসব ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় চোর চক্র, তাদের আশ্রয়দাতা এবং পুলিশের কিছু সদস্যের কথিত যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দাবি, চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের কারণে অপরাধীরা এক ধরনের সুবিধা পাচ্ছে।

তবে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোয়ারা গ্রহণ কিংবা অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে মোংলা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ চোরেরা বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী দ্রুত স্থানীয় ভাঙারি দোকানগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকায় অর্ধশতাধিক ভাঙারি দোকান রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। এসব দোকানের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা দাবি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে টাকা দাবি করা হলে তা না দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তাদের অভিযোগ, টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি কিংবা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, নিয়মিত কর ও অন্যান্য খরচ বহন করেও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় অভিযোগ জানাবে—এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

এ ছাড়া মোংলা এলাকার কিছু মদের দোকান থেকেও পুলিশের বিরুদ্ধে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, চোরাই মালামাল কেনাবেচার পথ বন্ধ করা গেলে চুরি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে চুরির ঘটনায় শুধু সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক নয়, চোরাই মাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মোংলা ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, গ্রাম ও শহর এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে—এ বিষয়টি তারা অবগত। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে মাসিক মাসোয়ারা বা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, তার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের কোনো অর্থ আদায় বন্ধ করা হয়েছে। কেউ যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোয়ারা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, শহরে চুরি প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি চুরির ঘটনা তদন্ত করে চোর চক্রকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোয়ারা নেওয়া কিংবা অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে চুরি বন্ধ, চোরাই মালামালের কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মোংলার ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

 

@bagerhat24.com