বাগেরহাটে ৩ খুনের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া সংক্রান্ত পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী দল। এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামীকে গ্রেফতারসহ ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে চান্দেরকোলা গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৪ আগস্ট বেলা ১১:৫০ ঘটিকায় খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহগুলোর সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাগেরহাট সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০২, তারিখ: ০৫/৮/২০২৬ খ্রি.) রুজু করা হয়।
ঘটনার পর জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ইসলামকে (পিতা: মৃত মজিদ হাওলাদার) গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মেলে গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য।
পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং জাহিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮:৩০ ঘটিকায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় আসাদুল শেখকে (পিতা: সুলতান শেখ)। গ্রেফতারের পর আসাদুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার শয়ন কক্ষের খাটের বালিশের নিচ থেকে নিহত আহাদের ব্যবহৃত চার্জারসহ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। আসাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে (২৩:০০ ঘটিকায়) চান্দেরকোলা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় অপর আসামী মোঃ আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে (পিতা: বারিক হাওলাদার)।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সাথে আসামী জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হলে আহাদের মা নিহত মনিরা বেগমের সাথে জাহিদুলের মারাত্মক ঝগড়াঝাটি হয়। একই ঘটনায় জাহিদুলের নিজ স্ত্রী-র সাথেও তার পারিবারিক দ্বন্দ্ব তুঙ্গে ওঠে। এই ক্ষোভ ও রেষারেষির জের ধরেই জাহিদুল ইসলাম অন্য আসামীদের সাথে নিয়ে এই ত্রিযোগাত্মক হত্যাকাণ্ডের নীলক নকশা বাস্তবায়িত করে।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
