৫ বছর পর মোংলা বন্দর সিবিএ নির্বাচন ১৫ সেপ্টেম্বর
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা, রক্তক্ষয়ী হামলা, পাল্টা-হামলা এবং নানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে মোংলা সমুদ্র বন্দরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারীদের বৃহত্তম সংগঠন ‘কর্মচারী সংঘ (সিবিএ)’-এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। দীর্ঘ ৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই ঐতিহাসিক ব্যালট যুদ্ধ। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ৩১ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর ও টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র বিক্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই মোংলা বন্দর এলাকায় সাধারণ কর্মচারী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে সাধারণ কর্মচারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্তিতা হচ্ছে দুটি প্রধান শক্তিশালী প্যানেলের মধ্যে একটি ‘সরোয়ার হোসেন খোকন-সোবাহান’ পরিষদ এবং অন্যটি ‘সেলিম-পল্টু’ পরিষদ।
এই দুটি প্যানেল থেকে সিবিএ-এর ১৯টি পদের অনুকূলে মোট ৫৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের মূল চমক হিসেবে কোনো প্যানেলে না গিয়ে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বা প্যানেলবিহীন প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে একটি একক মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন অত্র সিবিএ সংগঠনের সাবেক সফল সদস্য আসিফ নাইম। সব মিলিয়ে ১৯টি পদের বিপরীতে মোট ৫৪টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে বলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিশ্চিত করেছে। মোংলা বন্দরের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বৃহত্তম এই সিবিএ সংগঠনে এবার মোট ৭৩০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সাধারণ কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সর্বশেষ ২০২১ সালে এই সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে নতুন নির্বাচনের সময় নির্ধারিত থাকলেও একটি নির্দিষ্ট মহলের নানা কূটকৌশল, মামলা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার মানসিকতার কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচন আটকে ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ কর্মচারীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের পাশাপাশি বন্দরের দাপ্তরিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছিল। এবার সব আইনি ও রাজনৈতিক বাধা পেরিয়ে নির্বাচনের দিন ধার্য হওয়ায় বন্দর এলাকায় সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে যেন ঈদের আমেজ ফিরে এসেছে।
তবে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও পর্দার আড়ালে উঁকি দিচ্ছে গভীর সহিংসতার শঙ্কা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ জুলফিকার আলী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সমস্ত প্রশাসনিক পস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। তবে অতীতের সকল অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এবারও একটি স্বার্থান্বেষী এবং পরাজিত অপশক্তি নির্বাচন নস্যাৎ করতে এবং ভোটকেন্দ্র দখল বা ভাঙচুরের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। পর্দার আড়াল থেকে একটি মহল সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেণ তিনি।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোংলা বন্দর ইষ্টিভিডরস এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মোঃ জুলফিকার আলী আরও বলেন, আমরা কোনো অবস্থাতেই কোনো অপশক্তিকে সাধারণ কর্মচারীদের এই উৎসবের নির্বাচন নস্যাৎ করতে দেব না। বন্দর কর্মচারীদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আমরা শতভাগ আপসহীন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সব ধরনের কঠোর ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হবে।
এদিকে প্রধান দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর থেকেই মোংলা বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ এবং অনানুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন বন্দরের কর্মচারীরা। সব মিলিয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের এই বহুল প্রতীক্ষিত ব্যালট যুদ্ধের দিকে এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন মোংলা সমুদ্র বন্দরের উর্দতন কর্মকর্তা, শত শত কর্মচারী এবং স্থানীয় সচেতন মহল। বন্দরের কর্মচারী সংঘ নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপক্ষেল দাবী তাদের।
