সুন্দরবনের দুই শতবর্ষী জলযান রক্ষায় স্মারকলিপি
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
সুন্দরবনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শতবর্ষী দুটি জলযান ‘এম এল বনরানী’ ও ‘এম এল বনকন্যা’ নিলামে বিক্রির উদ্যোগ বাতিলের দাবি উঠেছে। পরিবেশ ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘হেরিটেজ অ্যান্ড নেচার ভয়েসেস বাংলাদেশ’ জলযান দুটি সংরক্ষণের দাবিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বহু বছরের পুরোনো কাঠের তৈরি বনরানী ও বনকন্যাকে সাধারণ নৌযান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সুন্দরবনের বন ব্যবস্থাপনা, ঐতিহাসিক কার্যক্রম এবং এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলপথভিত্তিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই দুটি জলযানের ইতিহাস।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নিলামের মাধ্যমে জলযান দুটি বিক্রি হয়ে গেলে সুন্দরবনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এগুলোকে প্রত্নসম্পদ বা ঐতিহ্যবাহী সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, বনরানী ও বনকন্যাকে সংরক্ষণ করে নতুনভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা সম্ভব। ঐতিহাসিক এই জলযান দুটিকে পর্যটন আকর্ষণ, প্রদর্শনী কেন্দ্র কিংবা ভাসমান জাদুঘরে রূপান্তর করা হলে দর্শনার্থীরা সুন্দরবনের বন ব্যবস্থাপনা ও অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
এ ধরনের উদ্যোগ সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অঞ্চলের জলযানভিত্তিক ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে শতবর্ষী এই দুটি জাহাজ।
‘হেরিটেজ অ্যান্ড নেচার ভয়েসেস বাংলাদেশ’-এর নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বনরানী এবং বনকন্যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নেবে। নিলাম প্রক্রিয়া বাতিল করে জলযান দুটি সংরক্ষণের জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তারা প্রত্যাশা করছেন।
ঐতিহ্য সংরক্ষণে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে সুন্দরবনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
