Logo
table-post
জলবায়ু সহনশীলতায় মোংলায়  ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ
01/01/1970 12:00:00

মাসুদ রানা, মোংলা 

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে এবং পরিবারের পুষ্টি ও বাড়তি আয়ের উৎস তৈরিতে মোংলায়  ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের (সিইআইপি) আওতাধীন 'রেইন ফর লাইফ' প্রকল্পের অধীনে বসতবাড়িতে গাছ লাগানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

 

  ২৭ জুলাই সোমবার দুপুরে ব্রাম্মণমেঠ জগন্নাথ মন্দিরের মাঠে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। রয়্যাল ড্যানিশ দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পের উদ্যোগে এ চারা বিতরণ করা হয়।

 

সোমবার ১টায় গাছের বিতরন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন  প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী। গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় নেতা মো. নূর আলম শেখ। উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কর্মকর্তা তৃপ্তি সরদার, রাশেদ খান ও মাসুম মিয়াসহ স্থানীয় যুব নেতৃবৃন্দ।

 

 চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী বলেন, "মোংলা একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে লড়তে হয়। সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যা সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশগ্রহণেই সফল হবে। ব্র্যাকের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, তা রক্ষা ও পরিচর্যাে  দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।" অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার বলেন, "উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত মাটিতে সব ধরনের গাছ সহজে বাঁচে না। তবে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি এই পরিবেশে বেশ মানানসই। সঠিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে এগুলো দ্রুত বেড়ে উঠবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি।" 

 

উল্লেখ্য এই প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক মোংলার চাঁদপাই, চিলা, মিঠাখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সফেদা, কদবেল ও মেহগনি প্রজাতির প্রায় ১২ হাজার গাছের চারা বিতরণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়িত এ কার্যক্রম উপকূলে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

@bagerhat24.com