Logo
table-post
পদ্মা সেতু-রেল সংযোগেও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ মোংলা বন্দর
01/01/1970 12:00:00

মোংলা প্রতিনিধি
পদ্মা সেতু আর রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার পরেও কাঙ্খিত লক্ষে পৌছাতে পারছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দরটি। অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় বন্দরটির নানামুখী অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়লেও পশুর নদী ও আন্তর্জাতিক নৌ-রুট মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের তীব্র নাব্যতা সংকট আর কাস্টমসের নানা জটিলতার কারণে জাহাজ আগমন, পন্য আমদানী-রফতানি আর ঘাটতি দেখা দিবে সরকারী রাজস্বে । 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশুর ও ঘষিয়াখালী চ্যানেলে নিয়মিত পলি জমে গভীরতা কমে যাওয়ায় বড় ড্রাফটের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারছে না। এর ফলে বাধ্য হয়ে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। যদিও নাব্যতা সংকট দূর করতে এরই মধ্যে চ্যানেল ড্রেজিংয়ের দুইটি প্রকল্প শেষ করে পুনরায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে প্রায় ১৫ শ ৩৮ কোটি টাকা ব্যায় একটি বড় ড্রেজিং প্রকল্প চুক্তি করেছে। তবে তার সুফল পেতে এখনো দীর্ঘ সময় লাগবে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হয়রানি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন কড়াকড়ির কারণে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দিন দিন কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বন্দরের সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে। দ্রুত এই দুই সংকট সমাধান করা না গেলে রাষ্ট্রীয় এই বিশাল বিনিয়োগ ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বন্দর ব্যবহার থেকে ক্রমান্বয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশুর নদী ও মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্য সংকট দূর করতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বড় ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধার্থে নৌবাহিনীর মাধ্যমে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এছাড়া, কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। 


বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ব্যবসায়ীদের বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ২৪ ঘণ্টা পণ্য খালাসের সুবিধাসহ বেশ কিছু আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগের পূর্ণ সুফল পেতে আমরা জেটি ও টার্মিনালগুলোর আধুনিকায়ন করছি এবং বন্দর ব্যবহারের খরচ কমানোর পরিকল্পনা নিচ্ছি। সকল সংকট নিরসনে এবং বন্দরের গতিশীলতা বাড়াতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া নিয়োমিত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি পশুর চ্যানেলের ইনার বারে নিয়মিত সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হচ্ছে। যেন আগামী দিনগুলোতে জোয়ারের ওপর নির্ভর না করে ৭.৫ থেকে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে।কাস্টমস ও শুল্কায়নের আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ডিজিটাল 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' (OSS) চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ফাইল ছাড়ের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে দ্রুতই একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। যেন কাস্টমসের বর্তমান কড়াকড়ি বা জটিলতাগুলো আলোচনার মাধ্যমে শিথিল করা যায়।


রেলওয়ের মাধ্যমে কনটেইনার পরিবহনের খরচ ও সময় কমানোর জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে বিশেষ ট্যারিফ বা ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় মোংলা বন্দর হবে আধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দরে রুপান্তরিত।
 

 

@bagerhat24.com