চিতলমারীতে সরকারি দামে ধান বিক্রি ব্যাহত, কৃষকদের কান্না
01/01/1970 12:00:00 চিতলমারী প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পেরে কৃষকদের কান্না থামছেনা। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্তকর্তা মুহাইমিনুল এবং দালালদের দুব্যর্বহার ও হয়রানিতে তাঁরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। দুর্বব্যহার ও হয়রানি থেকে পরিত্রাণ এবং ওই কর্তকর্তার বিচারের দাবিতে কৃষকেরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাই বহু কষ্টে উৎপাদিত ধান নিয়ে তাঁরা এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্যদিকে, নীরিহ সাধারণ কৃষকদের ঠেকাতে গোডাউন এলাকাটিতে ঘিরে রেখেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ভাবে এ উপজেলায় ১ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন ধান এবং ২ হাজার ১৭৯ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সরকার প্রতিকেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা ও প্রতিকেজি চালের দাম ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। ধান-চাল সংগ্রহের জন্য উপজেলায় মাইকিং করা হয়। সরকারি মাইকিং শুনে ধান বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষকেরা খাদ্য গোডাউনে আসলে ভারপ্রাপ্ত খ্যাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল কৃষকদের কাছ থেকে কৃষককার্ড জমা নেন। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অন্যত্র থেকে ধান ক্রয় করে বিক্রি করছেন এবং প্রকৃত কৃষকদের নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কৃষকরা সকাল-সন্ধ্যা ধান নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। কিন্তু তাঁদের ধান ক্রয় না করে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে গোডাউন ভর্তি করে রেখেছে। কৃষকদের দাবি গোডাউনে যে ধান রয়েছে তা চিতলমারী উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয়কৃত নয়। ওই কর্মকর্তা কৃষকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও মারমুখী আচরণ করেন। কর্মকর্তা মুহাইমিনুল সরকারিভাবে বস্তাসহ ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম ধান নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও ৪২ কেজি ২০০ গ্রাম ধান নেন। এ ছাড়াও তিনি প্রতি ৫০ মন ধানে ৩ মন ধান উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করেন। কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের রাজস্ব টাকা কর্তন করলেও কোন ভাউচার দেন না।
উপজেলার শিবপুর কাটাখালী গ্রামের ঠান্ডা ফকির বলেন ‘আমি ধান নিয়ে গেলে গোডাউন কর্মকর্তা মুহাইমিনুল আমার কাছে প্রতি ৫০ মন ধানে অতিরিক্ত ২ মন করে ধান উৎকোচ দাবি করেন। আমি তাঁকে ধান ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে তিনি আমাকে অকর্থ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেন। খাদ্য গুদান কর্মকর্তা মুহাইমিনুল অত্যান্ত দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর লোক। সে খাদ্য গুদামকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তাঁর বিচারের দাবিতে আমরা বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
খড়মখালী গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোর ধানের চাষ করেছেন। তিনি একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন। তাঁর কাছ থেকে ঘুষ নিতে পারবে না বিধায়, ধান ফেরত দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে নির্বাহী কর্মকর্তা গোডাউন কর্মকর্তাকে ওই মুয়াজ্জিন ও কৃষকের ধান নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু কেন বিষয়টি ইউএনওকে জানালেন এ নিয়ে গোডাউন কর্মকর্তা মুহাইমিনুল কৃষক মোস্তাফিজুরকে প্রচন্ড গালমন্দ করেন। ধান নিয়ে এখন মোস্তাফিজুর রহমান দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
হিজলা গ্রামের কৃষক মোঃ ইসহাক কান্নাজড়িতকন্ঠে জানান, খাদ্য গোডাউন কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের অসভ্য আচরণ ও হয়রানিতে তিনি এখন দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পারলে তিনি চরম বিপাকে পড়বেন।
আড়ুয়াবর্নি গ্রামের কৃষক মোঃ শরিফুল হক বলেন, ‘গোডাউন চত্বরটি এখন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে। এই সিন্ডিকেটের বাইরে কোন কৃষকের ধান গোডাউন কর্মকর্তা ক্রয় করেন না। কারণ এরাই ঘুষ বানিজ্যও কোটা নির্ধারণ করেন।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে চিতলমারী ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল বলেন, ‘যে কেউ অভিযোগ দিতেই পারে। ধানে যদি চাল ঠিকমত না হয় সেই ক্ষতি কি আমি বাপের বাড়ি থেকে এনে দিব। খারাব ভাষায় বলতে হয়, এ সমস্ত অভিযোগে আপনারা কান দেন কেন?
চিতলমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ কাওছার আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় ইউএনও স্যার আমাকে ফোন দিয়েছিল। আজ আমি অফিসে নেই। আগামীকাল অফিসে আসেন কথা বলবো।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোন কৃষক আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
