Logo
table-post
বাগেরহাটে ডেঙ্গু আতঙ্ক, হাসপাতালে ৪২ ভর্তি
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

বর্ষাকালের টানা বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাগেরহাটে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত জেলায় নতুন করে আরও চারজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪২ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া গত দুই মাসে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩৬ জন।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত থাকলেও ওষুধ সেবনের পর অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি।

একই হাসপাতালে ভর্তি আরেক রোগী আমেনা বেগম বলেন, এবারের জ্বর ছিল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক। শরীরে প্রচণ্ড দুর্বলতা থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চারদিন ধরে চিকিৎসা চললেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে চলতি মাস এবং আগামী আগস্টে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এজন্য আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, সম্প্রতি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিটি রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

এদিকে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, ড্রাম কিংবা যেকোনো পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজর দিতে হবে। পাশাপাশি শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও বিশ্রাম বা ঘুমের সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

@bagerhat24.com