মোরেলগঞ্জে ছাপড়া ঘরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান
01/01/1970 12:00:00মেহেদী হাসান লিপান, মোরেলগঞ্জ
মোরেলগঞ্জের ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৫বছর ধরে ছাপড়া দেয়া ঘরে পলিথিন টাঙ্গিয়ে ক্লাশ করছে।
রোদ-বৃষ্টি যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের এ বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হলেও ২০২১ সালে পুরাতন ভবনটি নিলাম প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে এ বিদ্যালয় আর নতুন কোন ভবন নির্মাণ না হওয়ার ফলে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পলিথিন টাঙ্গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করতে হচ্ছে। জরাজীর্ন গোলপাতার ছাপড়া ঘরে ২ সিফটে ৩ টি শ্রেনীর পাঠদান করানো হয়। প্রচন্ড রোদ আর ঝর বৃষ্টি দৈনন্দিন শিশু শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় দূর্ভোগে থাকতে হয়। অবিভাবকরা বিদ্যালয় থেকে তাদের ছেলে মেয়েদের সরিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে ভর্তি করছেন। প্রচন্ড রোদে ছাপড়া ঘরে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতে হিমসিম খাচ্ছেন। শ্রেনী কক্ষে নেই কোন বৈদ্যুতিক পাখা। গোলপাতার ছাউনির ঘরটিতে ছাউনিতে পলিথিন দিয়ে কোন মতে রোদ বৃষ্টি ঠেকানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থাকে বন্ধ। পরীক্ষাও নেয়া হয় শিক্ষকদের অফিস রুমে। নতুন ভবনের একাধিকবার তালিকায় নাম গেলেও অধ্যবদি হয়নি এ স্কুলে নতুন ভবন।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ব্যাপক সমস্যার সাথে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলি ৬টি পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৩ জন। ২০২৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে রোজিনা আক্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫-২০২৬ সাল থেকে সহকারী ২জন শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়মিত বেশি হলেও ৩ জন শিক্ষকের দ্বারা ক্লাস পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম, জেরিন আক্তার, তাছরিন জারিন আবৃতা ও সুরুইয়া আক্তার এরকম একাধিক শিশু শিক্ষার্থীরা বলেন, রোদ পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এভাবে কষ্ট করে আর কতদিন আমাদের ক্লাস করতে হবে বলতে পারেন। কবে হবে আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবন। অবিভাবক তহমিনা বেগম, শারমিন বেগম বলেন ৭/৮ কিলোমিটার দূর থেকে পায়ে হেটে এসে এ বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের নিয়ে আসে। লেখাপড়ার দিক থেকে এ স্কুলটি খুবই ভালো। ৫ বছর ধরে এরকম পলিথিন টাঙ্গিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন এ জরাজীর্ন ঘরে। বিদ্যালয় একটি নতুন ভবনের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি দাবী জানান এ অবিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, নিয়মিত অবিভাবকদের হাজারও প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। পূর্বের ভবন অপসারনের পর থেকেই ২০২৩ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ থেকে একটি টিন সেটের ছোট ঘর নির্মান করা হয়েছিল। সেখানে শিক্ষকরা অফিনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তার মধ্যে বৃষ্টির সময় ছেলে মেয়েদের এ অফিস ঘরেই ক্লাস নেওয়া হয়। কয়েকবার পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসে নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এ সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার ও পরিদর্শকদের নিকট অবহিত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি এ বিদ্যালয়ে এক সময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সেই সময় থেকেই বিদ্যালয়টিতে ভবন না থাকায় প্রতিনিয়ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নানবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অবিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ে নতুন একটি ভবন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভবন না থাকার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। একাধিকবার তালিকায়ও প্রস্তাবনায় রয়েছে বিদ্যালয়টি। পরবর্তী বরাদ্দ হলে এ স্কুলটি নতুন ভবনের তালিকায় থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
