চাকুরির মেয়াদ শেষ হবার পরেও খাতায় স্বাক্ষর করছেন অধ্যক্ষ, মাদরাসার পরিবেশ উত্তপ্ত
01/01/1970 12:00:00মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি:
মোরেলগঞ্জ গুলিশাখালী ফাজিল(স্নাতক) মাদরাসার অধ্যক্ষ চাকুরির বয়স শেষ হবার পরেও অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ঘটনায় মাদরাসাটিতে প্রশাসনিক জটিলতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদারের চাকুরির বয়স গত ২৯ জুন শেষ হয়েছে। এর পরেও তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে হাজিরা খাতায় বুধবার(১ জুলাই) স্বাক্ষর করলে মাদরাসাটিতে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষসহ অপর শিক্ষকগণ আব্দুল বারী হাওলাদারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্ণীতি ও পেশী শক্তির অভিযোগ তুলে তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সাথে উপাধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলাম প্রাণহানীর আশংকায় বুধবার(১ জুলাই) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছেন। মাদরাসাটিতে প্রায় ৮ শত ছাত্রছাত্রী রয়েছে।
উপাধ্যক্ষ বলেন, চাকুরির মেয়াদ শেষ হবার পরেও অধ্যক্ষ আব্দুল বারী পেশি শক্তি খাটিয়ে হাজিরা খাতা কেড়ে নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করেছেন। খাতা আটকে রেখেছেন। বহিরাগতদের নিয়ে তিনি(আব্দুল বারী) অবৈধভাবে অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে রেখেছেন। শিক্ষক কর্মচারীরা তার এ অনৈতিক ও সৈরাচারি অবস্থান মেনে নেবেনা।
এ ঘটনার বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল বারী তার চাকুরির মেয়াদ শেষ হবার কথা স্বীকার করে বলেন, মাদরাসাটিতে তার অনেক শ্রম ও ত্যাগ রয়েছে। চাকুরির বিধি অনুযায়ী কমিটি তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। তাই বিনা বেতনে তিনি অধ্যক্ষ পদে আরও দুই বছর চাকুরি করবেন। এখানে তিনি অনৈতিক বা পেশি শক্তির বলে কিছু করেননি।
অপরদিকে মাদরাসাটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস বলেন, অধ্যক্ষ আব্দুল বারী এখন এ মাদরাসার কেউ নন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের কোন বৈধতা তার নেই। তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কমিটি নিয়োগ দিলে তা কতৃৃপক্ষের অনুমোদনের পরে অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি আবার চাকুরি করতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, মাদরাসাটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস। বিধান অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবেন। আইন-শৃংখলার অবনতি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
