গ্রাম আদালত মামলায় শীর্ষে মোল্লাহাট
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ী বিচারসেবা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় গ্রাম আদালত বিষয়ক একটি সমন্বিত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর সেবাকে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ জুন) মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের ‘অপরাজিতা’ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন।”
স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমানা আইরিন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মিতা দে।
মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তিতে জেলার সেরা মোল্লাহাট
কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে দক্ষতা ও সক্রিয়তার কারণে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার মধ্যে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মোল্লাহাট গ্রাম আদালত প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রাম আদালত।
স্বল্প খরচে দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, প্রচলিত আদালত ব্যবস্থাকে অনেক সাধারণ মানুষ সময়সাপেক্ষ ও জটিল মনে করেন। ফলে অনেকেই ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে খুব কম সময়ে এবং অল্প খরচে স্থানীয় পর্যায়েই ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব। এ কারণে গ্রাম আদালতের সুবিধা ও কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি প্রচারণা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তারা “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” স্লোগানকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইউএনওর আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সুমানা আইরিন বলেন, গ্রামীণ জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত অত্যন্ত কার্যকর একটি ব্যবস্থা। মানুষের আইনি অধিকার সুরক্ষা এবং বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সহজ করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালত আইন ও এর বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে বিভ্রান্তি কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের উচ্চতর আদালতগুলোর ওপর মামলার চাপও কমবে।
বিভিন্ন দপ্তর ও এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
কর্মশালায় সহকারী পুলিশ সুপার (ফকিরহাট সার্কেল) মো. রাশেদুল ইসলাম রানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উপজেলার ১০টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও কর্মশালায় অংশ নেন।
সচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিত উদ্যোগের অঙ্গীকার
কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গ্রাম আদালতের সেবা ও সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, গ্রামীণ জনগণের কাছে ন্যায়বিচার সহজলভ্য করতে গ্রাম আদালতের বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
