Logo
table-post
মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা: ৩ শতাধিকের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৬
01/01/1970 12:00:00

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থাপিত কোস্ট গার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে চিলা ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন জয়মনিরঘোল এলাকার কোস্ট গার্ডের ভাসমান স্টেশনে (হাড়বাড়িয়া) এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩ শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেছে কোস্ট গার্ড। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার রাতভর ওই এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ চিরুনি অভিযান চালিয়ে জয়মনি এলাকার চিলা ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং ৩ নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরের পর আটককৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েচে পুলিশ। 

বনদস্যু ও চোরাকারবারিদের পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন প্রেস নোটের মাধ্যমে শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানান। 

পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সুত্রে জানায়, মোংলার জয়মনিরঘোল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের বনদস্যু, চোরাকারবারি, বিষ দিয়ে মাছ শিকারী ও অবৈধ ভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বন্যপ্রানী হত্যা ও পাচারকারীদের একটি প্রধান কৌশলগত ঘাঁটি বা রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ওই অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের ভাসমান স্টেশনটি স্থাপন করার পর থেকে অপরাধীদের লজিস্টিক সাপোর্ট, অস্ত্র সরবরাহ এবং চোরাচালানের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও দুষ্কৃতকারী সিন্ডিকেট বেশ কিছুদিন ধরে স্টেশনটি উচ্ছেদের পাঁয়তারা ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক লোক সংঙ্গবদ্ধ হয়ে হঠাৎ তারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জয়মনির শ্যালার খালে অবস্থিত স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর চালায়। কোস্ট গার্ড সদস্যরা স্টেশনের অস্ত্র, গুলি ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে আত্মরক্ষা জোরদার করলে সংঘর্ষে কোস্ট গার্ডের ৩ জন সদস্য গুরুতর আহত হন। মূলত বনদস্যু দমন ও কোস্ট গার্ডের চলমান সফল অভিযানকে নস্যাৎ করতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষের।

তবে স্থানীয় প্রতিপক্ষের দাবি, নিখোঁজ মিরাজ শেখ নামের যুবকের সন্ধান চাইতে গিয়ে সংঘর্ষ। অন্যদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের স্বজনদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গত কিছুদিন ধরে জয়মনি এলাকার ‘মিরাজ শেখ’ নামের এক স্থানীয় যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। মিরাজের স্বজনদের দাবি, তার এই আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার পেছনে যে কোন একটি বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরাজের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় যুবকেরা কোস্ট গার্ড স্টেশনে গিয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান এবং খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, সে সময় সেখানে কোস্ট গার্ড সদস্যদের সাথে কথা কাটাকাটি ও বাগবিতান্ডার একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে তাদের ওপর প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। এতে উত্তেজিত হয়ে সাধারণ গ্রামবাসী ও নিখোঁজ যুবকের স্বজনেরা কোস্ট গার্ডের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কোস্ট গার্ড ষ্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায় স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান শাহিন বাদি হয়ে জয়মনি এলাকার ৪৪ জনকে চিহ্নিত আসামী করে করে অজ্ঞাত আরো প্রায় ৩শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় মামলা করে কোস্ট গার্ড। এদিন বৃহস্পতিবার রাত ভর অভিযান চালিয়ে চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকার ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুলতান শেখ  ও ৩ নারী সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। 

আটককৃতরা হচ্ছে, প্রধান অভিযুক্ত আসামী মুক্তা বেগম, লিজা ইসলাম, তাসলিমা বেগম, সুলতান শেখ, মহারাজ খান ও মোঃ শাহজালাল ফরাজী। তাদের সকলের বাড়ি মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকায়। 

গ্রেফতার এড়াতে এলাকা এখন পুরুষশূন্য, থমথমে পরিস্থিতি হামলা ও মামলা দায়েরের পর থেকে পুরো জয়মনি এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ তো বটেই, এমনকি সাধারণ নারীরাও ঘরবাড়ি ছেড়ে সুন্দরবন সংলগ্ন পাশ্ববর্তী এলাকায় পালিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মামলার এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান ও কঠোর নিরাপত্তা টহল জোরদার রাখা হয়েছে। 

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অপরাধীদের শনাক্ত করতে কোস্ট গার্ডের দেওয়া ভিডিও ফুটজ ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় আসামিদের গ্রেফতরের যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। 
 

 

@bagerhat24.com