কচুয়ায় বসতঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ, আহত ১
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার টেংরাখালী গ্রামে বসতঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার(০৬ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে এক নারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেংরাখালী গ্রামের রাস্তার পাশের ৬ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আফসার আলী ও হালিমা খানমের (সম্পর্কে চাচা-ভাইজি) মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার দুপুরে আফসার আলীর ছেলে রাকিব শেখ ও রাজিব শেখের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হালিমা খানমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হালিমা খানমের মেয়ে সেলিনা বেগম (৪৫) বাধা দিতে গেলে তিনি আহত হন। হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙচুর করে জমিটি দখলে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।
হালিমা খানম বলেন, “জমিটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমার বাবা এটি আমাকে লিখে দিয়েছেন। গত ৩০ বছর ধরে আমরা জমিটি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আমার চাচাতো ভাইয়েরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। শনিবার তারা লোকজন নিয়ে এসে আমার মেয়ের ওপর হামলা চালায়, বসতঘর ভাঙচুর করে জমি দখল করে নেয়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিব শেখ বলেন, “জমিটি মূলত আমাদের। আমার চাচাতো বোনেরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন জমিটি দখল করে রেখেছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিস হলেও তারা কোনো সমাধানে আসেনি। আমরা শুধু আমাদের জমির দখল নিয়েছি। এখানে কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান বলেন,জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
