মহসিনের আম্রকাননে স্বাস্থ্যসম্মত আম সাড়া ফেলেছে
01/01/1970 12:00:00চিতলমারী প্রতিনিধি
চিতলমারীর চাষি মো. মহসিনের আম বাগানে উৎপাদিত স্বাস্থ্যসম্মত আম সাড়া ফেলেছে। শুধু এলাকায় নয় উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে এ আম। নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় ক্রেতারাও মোবাইল ফোনে আমের অর্ডার দিচ্ছেন। মহসিন ও তাঁর লোকজন অর্ডার অনুযায়ী সষত্নে কার্টুন ভরে আম পৌঁছে দিচ্ছেন মহসিনের বাড়িতে। ব্যবসা ছেড়ে আম চাষে সফল চৌত্রিশ বছর বয়সের মহসিন আজ বেশ উৎফুল্ল।
মহসিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে ব্যবসায় মোটা অংকের মুলধন খাটিয়েছিলো। এই উদ্যোক্তা ১১ বছর ব্যবসার পিছনে নিরলস সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন। তবুও স্বপ্নের মোবাইল ফোন ব্যবসাটিকে দাঁড় করাতে পারেননি। নানা সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত চিতলমারী সদর বাজারের মোবাইল ফোন ব্যবসাটি বন্ধ করে দেন। কিন্তু এখানেই দমে থাকেনি মহসিন। জীবন ও জীবিকা চালাতে সে কৃষিকে পেশা হিসেবে খুঁজে নেন। নিজের জমি না থাকায় উপজেলার শিবপুর গ্রামের শেখ লিটনের কাছ থেকে সাড়ে ৩ একর চিংড়ি ঘের নগদ জমায় এবং ৩ একর আম বাগান বর্গা নেন। আধুনিক জীবন ধারায় অভ্যস্থ মহসিনের শুরু হয় সংগ্রামী জীবন। চার বছর আগে শুরু করা আম চাষে এখন মহসিন সফল।
মহসিনের বাগানে মোট ১৬০ টি আম গাছ রয়েছে। বাগানে গোপাল ভোগ, গোবিন্দ ভোগ, হিম সাগর, হাড়িভাঙ্গা, থাইরডস্, ফজলি ও লতা জাতের আম আছে। আমের বর্গা ভাগ হিসেবে বাগানের মালিককে ৩ ভাগের ১ ভাগ আম দিতে হয়। বাকি ২ ভাগ মহসিনের। তিনি গাছের পাকা আম ছাড়া কখনো বিক্রি করেন না। উৎপাদিত ফলে কোন প্রকার ক্ষতিকর রাসয়নিক ব্যবহার করেন না। প্রতিকেজি আম বিক্রি করেন ৮০-৯০ টাকায়। ফোন দিলে (০১৯১৪-১৫৪৮৫৫) যত্নের সাথে আম সরবরাহ করেন। এ ভাবে আম বিক্রি করে মহসিন বছরে দুই থেকে চার লাখ টাকা লাভ করেন। এছাড়া আম বাগানের মধ্যে মহসিন সরিষা, মটরশুটি ও মরিচের চাষ করেন। তা বিক্রি করেও বেশ টাকা উপার্জন করেন।
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর ব্যাপারী পাড়া গ্রামে বাস করা মো. মহসিনের বাবার নাম আব্দুল মজিদ শেখ। মা রেণু বেগম। চার ভাইয়ের মধ্যে মহসিন সকলের ছোট। মহসিন ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম দুইজনই শিক্ষিত। তাদের একমাত্র সন্তান ফারদিন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।
মো. মহসিন শেখ বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবসা দেড়ে অনেক কষ্টে ছিলাম। এখন আম চাষ ও কৃষি কাজ করে খুব ভাল আছি। এ বছর বছর বেশ আম বিক্রি করতে পারবো। এখানে অনেক মানুষ দেখতে আসেন। আম নিয়ে যান, ফোন দিয়ে কুরিয়ার করতে বলেন।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সিফাত-আল-মারুফ বলেন, মহসিনের আম বাগানে গত বছর ডিসি স্যার ইউএনও স্যারসহ আমরা পরিদর্শন করেছি। কৃষি অফিস থেকে তাকে সার্বিক ভাবে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এ বছরও আমাদের পরিদর্শন করার ইচ্ছা আছে।
