মোরেলগঞ্জে টিনের চালার ক্লাসে গরমে অতিষ্ঠ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক মিলনায়তন ঝুঁকিপূর্ণ
01/01/1970 12:00:00মেহেদী হাসান লিপন, মোরেলগঞ্জ
মোরেলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা চৌদ্দঘর ফকিরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গরমে টিনের চালা ক্লাসে পাঠগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছে। গরমে অতিষ্ঠতার কারনে পাঠদান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রয়েছে আসবাবপত্রের সমস্যা। শিক্ষক মিলনায়তনে দেয়ালে বড় ফাটল। ঝুঁকিতে শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ।
সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ ফকির সহ ফকিরবাড়ীর ওয়ারিশদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাদুরতলা চৌদ্দঘর ফকিরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা। দুই গ্রামের সীমান্তবর্তী এ মাদ্রাসায় ২৫২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় কৃত্বিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু মাদ্রাসার অবকাঠামোগত সমস্যার কারনে শিক্ষার্থীরা নানাবিধ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। দাখিল ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত কাঠের ক্লাসরুম সহ টিনের চালা। প্রচন্ড গরমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে কষ্টদায়ক হয় পড়ে। ক্লাসে ফ্যান থাকলেও রোদে ফ্যানের বাতাস আরো গরম হয়ে যায়। গ্রামীণ পারিপার্শ্বিকতার কারেন এ জনপদের অভিভাবকরা বেতন দেয়ার প্রতি অনিহা। অধিকাংশ অভিভাবক দিনমজুর। যার কারনে নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নের মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজ করেত হয়।
মাদ্র্রাসার ১০ শ্রেণির ছাত্রী হেলেনা আকতার, হালিমা আকতার জানায়, তাদের পয়ঃনিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা নেই। ছাত্রীদের লাইব্রেরী সংলগ্ন ওয়াশ রুম ব্যবহার করতে হয়। প্রখর রৌদ্রে ৩টা পর্যন্ত তাদের ক্লাস করতে দারুণ কষ্ট হয়।ফ্যানের বাতাসেও কাজ হয়না। যার কারনে মাঝে মাঝে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্ট হয়।
সিনিয়র শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান জানান, তাদের বসার জন্য লাইব্রেরি কক্ষটিও ঝুঁকিপূর্ণ। বড় আকারের ফাটল ধরেছে। যে কোন মূহুর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে মাদ্র্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল হাই ছিদ্দিকী জানান, মোরেলগঞ্জে অধিকাংশ স্কুল-মাদ্রাসা বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্মান কাজ চলছে। এ প্রতিষ্ঠানটিতে ভবন নির্মানের জন্য আবেদন করা আছে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ ফকিরের ছেলে ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য জিল্লুর রহমান শাহিন বলেন, মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন যাবৎ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন। এখন ভবন নির্মান সময়ের দাবি। তবে মাদ্রাসার উন্নয়ন তার সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করবেন তিনি জানান।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মান হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ চলছে।
