রামপালে কোটি টাকার ক্ষতির পর দিশেহারা পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আনোয়ার, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে
01/01/1970 12:00:00রামপাল প্রতিনিধি
রামপালে চাঁদাবাজ ও ঘের দখলবাজদের কবল থেকে পোল্ট্রি খামার ও মৎস্যঘের ফিরে পেতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেন। কোটি টাকা মূল্যের পোল্ট্রি খামার ও মৎস্যঘের হারিয়ে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার মিলছে না। এতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তারা প্রকাশ্যে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছি।
মামলার এজাহারে ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেছেন, জনৈক শেখ রুহুল আমিন ও শেখ মঞ্জুরুল বারীদ্বয়ের বাশতলীর মদনাখালীস্থ গ্রামে প্রায় ৮ একর জমি লিজ মূলে গ্রাহণ করেন। ওই জমিতে বেশ কয়েকটি টিনসেড ও স্থাপনা নির্মাণসহ পোল্ট্রি মুরগী মজুদ, ছাগলের ফার্ম করেন। এছাড়াও তিনি একইসাথে মৎস্যঘেরে বিপুল পরিমাণ মৎস্য চাষ করে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন, কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ উন্নতমানের বসবাসের ঘর নির্মাণ করেন। ওই সময় তিনি উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মৃত ইমান হাওলাদারের ছেলে হাওলাদার কবির হোসেনকে কর্মচারী হিসেবে ফার্মে নিয়োগ দেন।
এরপরে ওই ফার্মটি কৌশলে দখলের ষড়যন্ত্র করেত থাকে ওই কর্মচারী কবির হোসরনসহ ক্ষমতাশীন দলের পরিচয়দানকারী কতিপয় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে গত ইংরেজি ০৫-০৪-২০২৬ তারিখ রবিবার অনুমান সন্ধা ৭ টার সময় ওই কর্মচারী কবির হোসেন ও তার সহযোগী একই গ্রামের শেখ আব্দুস সবুরের ছেলে শেখ সালমান হোসেনসহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে ওই ফার্মে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। তারা ওই সময় ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ফার্মে দলবলসহ প্রবেশ করেন। ওই সময় কবির হোসেন ব্যাবসায়ী আনোয়ারের গলায় রাম দা ধরে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। তখর সন্ত্রাসীরা আরো হুমকি দিয়ে বলেন, তোর কাঁচা টাকার ব্যাবসা। এলাকায় ব্যাবসা করতে হলে তোকে চাঁদার টাকা দিতেই হবে। তা না দিলে তোকে জীবনে শেষ করে ফেলবো বলে হুমকি দেয়। ওই সময় পিকআপে মজুদ করা ২ টন মুরগী ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মারফত মোসাম্মৎ রোজিনার ইসলামী ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা ও পারভীনের একাউন্টের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে নিয়ে যায়। চাঁদার টাকা বাবদ ৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার পর বাকী ১০ লক্ষ টাকা ১৫ দিনের মধ্যে দিয়ে বলেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে এবং গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের জানালে ঘটনার ২য় দিন ইংরেজি ৩০-০৪-২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার অনুমান সকাল ১০ টায় বাশতলীর মদনাখালীস্থ ফার্মে প্রবেশ করে আসামী কবির, শেখ সালমান হোসেন, মনিরা বেগমসহ ২৫/৩০ জন। তারা রাম দা, শাবল ও খোন্তাসহ অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ফার্মে প্রবেশ করে আরো ৪০০ কেজি মুরগী যার অনুমান মূল্য ১ লক্ষ টাকা, ঘেরে থাকা বাগদা, গলদা, রুই, কাতল ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ লুট করে নেয়। যার অনুমান মূল্য ৪ লক্ষ টাকার মাছ লুটে নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ওই সময় আসামীরা ফার্মে থাকা মালামাল লুট ও ভাংচুর করে ক্ষতি করে।
এছাড়াও তারা ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে ফার্ম থেকে বের করে অবৈধভাবে ফার্মটি দখল করে নেয়। এমন অবস্থায় ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেন প্রতিকার চেয়ে বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দ্রুত বিচার আইনের ৪/৫ ধারায় গত ইংরাজি ৭মে একটি মামলার পিটিশন করেন। বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে রামপাল থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক রামপাল থানার ওসি মামলাটি রেকর্ড করেন। যার নম্বর -৭, তারিখ ০৭-০৫-২০২৬। মামলা করে বাদী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবী করেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কবির হোসেন বাইরে থাকায় তার স্ত্রী মনিরা বেগমের সাথে কথা হলে সে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমরা ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে খামারের পার্টনার রয়েছি। তবে বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে সে দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি রাজিব আল রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন যোগদান করেছি। নথিপত্র দেখে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রাহণ করা হবে।
