হাইকোর্টে তথ্য গোপনের অভিযোগে রামপালের বাইনতলা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরা বরখাস্ত
01/01/1970 12:00:00রামপাল প্রতিনিধি
হাইকোর্টে তথ্য গোপন করার অভিযোগে রামপালের বাইনতলা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরা বেগমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত তার ৪৬, ০০, ০১০০, ০১৭, ২৭, ০০৩, ২০৪/১ (৭) স্মারকপত্রে এ আদেশ দেন। বাগেরহাটের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. ফকরুল হাসান স্বাক্ষরিত তার ০৫, ৪৪, ০১০০, ০১১, ৫৬, ০৮৯, ২৬-২৩২ নং স্বারকপত্রের এক অফিস আদেশে গত ২৩ এপ্রিল প্যানেল চেয়ারম্যান -০৩ থেকে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
জানা গেছে, বাইনতলা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরা বেগম বিগত সরকারের আমলে সংরক্ষিত নারী আসন ৭,৮ ও ৯ থেকে ইউপি সদস্যা নির্বাচিত হন। তৎকালিন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ মনিরা বেগমকে ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেন। জুলাই বিপ্লবের পর ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য সৈয়দ শফিউল আলম সর্জিল দায়িত্ব পালনে অপরাগতা প্রকাশ করলে ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান খান আলমগীর দায়িত্ব নিতে চান। তাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান দাবী করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। আদালতকে অসত্য তথ্য প্রদান করে মনিরা বেগম প্যানেল চেয়ারম্যান ২ সেজে চেয়ারম্যানের চেয়ার অনেকটা দখল করেন।
এ ঘটনায় এলাকার সচেতন বাসিন্দা গাজী আরাফাত আলম ও গাজী আদম স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে মনিরা বেগম তথ্য গোপন করে হাইকোর্টকে ভুল বুঝিয়ে চেয়ারম্যানশীপ গ্রহন করেন মর্মে অভিযোগ করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরে প্রতীয়মান হয় মনিরা বেগম প্যানেল চেয়ারম্যান ০৩ হলেও তিনি তথ্য প্যানেল চেয়ারম্যান ০২ দাবি করেন। এটা প্রমাণিত হওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান -০৩ ও সংরক্ষিত নারী আসন ৭,৮ ও ৯ এর সদস্যা পদ থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ বিষয়ে সাবেক ওই ইউপির সদস্যা মনিরা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, হাইকোর্টের কেস দাখিলের সময় তিনি ১ নং না ২নং না ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান হবেন তা তিনি বুঝতে পারেননি বলে দাবী করেন।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরা বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়ে বলেন ওই ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
