রামপালে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ—স্থানীয়দের ক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
01/01/1970 12:00:00এম,এ সবুর রানা, রামপাল
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সিংগড়বুনিয়া গ্রামে একটি সরকারি প্রবাহমান খাল দখল করে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাঁধ অপসারণের দাবিতে তারা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পেড়িখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিংগড়বুনিয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চামারখালী খালটি জোয়ার-ভাটার পানিতে সচল একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এই খালের প্রবাহ মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারিভাবে খননের মাধ্যমে খালটির নাব্যতা পূর্বে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল।
তবে প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় ব্যক্তি ওহিদুজ্জামান আকুঞ্জী, স্থানীয় নেতা মোতাহার আলীর সহযোগিতায় খালের ওপর বাঁধ নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আশপাশের পরিবেশ ও জীবিকায়। বিশেষ করে এলাকার জেলেরা তাদের প্রধান আয়ের উৎস হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে এই দখল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সিংগড়বুনিয়ার বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন, কিন্তু দলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে বাঁধ নির্মাণকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দাবি করা হয়, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাওলাদার কামরুজ্জামান এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, খালের বাঁধ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে বা অপসারণের চেষ্টা করলে হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ওহিদুজ্জামান আকুঞ্জী দাবি করেন, মানুষের বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর পাশাপাশি মাছ চাষ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় নেতা মোতাহার আলীও সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে জনস্বার্থে নেওয়া উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে নিয়মিতভাবে সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হচ্ছে। নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রশাসনের অভিযান জোরদার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
