Logo
table-post
বৈশাখী ঝড় ও টানা বর্ষণে কচুয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি, বিপাকে কৃষক
01/01/1970 12:00:00

শুভংকর দাস বাচ্চু,কচুয়া
বাগেরহাটের কচুয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও বৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে বোরো মৌসুমের ফসলি মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার শত শত হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিস ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কচুয়ায় প্রায় ৭ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সিংহভাগ নিচু জমির ধান বর্তমানে হাঁটু পানির নিচে নিমজ্জিত। ইতোমধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, বাকিগুলো মাঠেই পানিতে ডুবে রয়েছে।

শুধু ধানই নয়, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শসা, করলা, ঢেঁড়স ও বেগুনসহ গ্রীষ্মকালীন সবজির প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার মসনী গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এবার প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ বেড়েছে, শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরিও বেশি দিতে হয়েছে। এখন ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।”


বর্তমানে কৃষি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, ক্ষেত থেকে সরাসরি বিক্রি করলে প্রতি মণ ধানের দাম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা খরচের তুলনায় খুবই কম বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কচুয়ায় ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৭ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৮৪০ হেক্টর এবং উফসী জাতের ৯০৫ হেক্টর জমিতে। পাশাপাশি প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে।
উপজেলার বাধাল, গোপালপুর ও রাড়ীপাড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়ে থাকে। এসব এলাকার অধিকাংশ জমিই নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কৃষকরা জানান, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা এই ফসল উৎপাদন করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক কৃষক চোখের সামনে তাদের পাকা ধান পানির নিচে পচে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি করলে তবে কৃষকদের, দ্রæত সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।

@bagerhat24.com