বাগেরহাটে আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট! ন্যায়বিচারের দাবিতে বোনের কান্না, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটে গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে ‘সাধারণ আঘাত’ হিসেবে সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবি করে এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগীর বোন ইরানি বেগম। তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে গত ২ মার্চ রাতে তার ভাই সোহানের ওপর হামলা চালানো হয়।
ইরানি বেগমের দাবি, অভিযুক্তরা সোহানকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, আহত সোহানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বরং গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে ‘নরমাল’ ইনজুরি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়, যা ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ফকিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্তরা নিয়মিতভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের মতো নানা অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
ইরানি বেগম তার বক্তব্যে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও থানা কেন সহযোগিতা করেনি, সে বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এমন সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
