মোংলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ
01/01/1970 12:00:00মাসুদ রানা,মোংলা
নতুন আশা আর উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মোংলায় উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩। "এসো হে বৈশাখ, এসো এসো"—এই আহ্বানে মোংলা উপজেলা জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার সকালে মোংলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রায় বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বড় বড় মুখোশ, পালকি এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত এবং বৈশাখী নাচে মেতে ওঠেন।
মোংলা সরকারি কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পৃথকভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নববর্ষ উপলক্ষে মোংলার উপজেলা মাঠে বসেছে বৈশাখী মেলা। মেলায় মাটির তৈরি খেলনা, কুটির শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি-পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা।
'মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, সহকারী কমিশমনার ভুমি নওশীনা আরিফ,উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি, সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী,সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক গোলাম নুর জনি,উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শাহীন,মোংলা থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান,ওসি তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন,সমাজসেবা অফিসার মোঃ মাসুদ রানা সহ থানা ও পৌর বিএনপির নেতা কর্মীরা উপস্তিত ছিলেন।
বর্ষবরণ উদযাপনকে কেন্দ্র করে মোংলা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।
