চিতলমারীতে বসতভিটা রক্ষায় নারীর অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00চিতলমারী প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে বসতভিটা রক্ষার দাবীতে কল্যানী মন্ডল (৫০) নামে এক নারী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ২টায় চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় তিনি হামলা, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনে জর্জরিতর কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে কল্যানী মন্ডল বলেন, ‘আমার স্বামী তুষার কান্তি বৈরাগী ২০০০ সালে স্থানীয় অমলেশ সাহা ও ধীরেন্দ্র নাথের কাছ থেকে ব্রহ্মগাতী মৌজায় দুটি প্লটে ৩৫ শতক জমি রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর বাড়িঘর নির্মান করে আমরা শান্তিতে বসবাস শুরু করি। কিছুৃদিন পর আমার স্বামী তুষার বৈরাগী মরণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্ত হন। স্বামীর চিকিৎসার জন্য মলয় মজুমদার নামে এক ব্যক্তির কাছে একটি প্লটের ১৯ শতক জমি আমরা বিক্রি করি। কিন্তু জায়গা জমি বিক্রি করেও আমার স্বামী তুষার কান্তি বৈরাগীকে বাঁচাতে পারিনি। তিনি আমাকে ও আমার ৭ বছরের শিশু সন্তান ওয়াশিংটন বৈরাগীকে রেখে মারা যান। স্বামীর মৃত্যর পর অনাহারে-অর্ধাহারে শিশু সন্তানকে নিয়ে জীবন-যাপন করি। এরই মধ্যে মলয় মজুমদার ফারজানা আক্তার নিপা ও অন্য এক ব্যাক্তির কাছে জায়গা বিক্রি করে দেন। ফারজানা আক্তারের স্বামী নাজমুল সরদার প্রভাবশালী এবং তার ভাসুর এরশাদ সরদার এলাকার প্রভাবশালী দাঙ্গাবাজ হিসেবে খ্যাত। ওরা জমি ক্রয় করার পর থেকে আমাদের পরিবারের উপর চরম মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। বাড়িতে টিকতে না পেরে আমরা এলাকার অন্য হিন্দু পরিবারে আশ্রয় নিলে ওরা তাদের শাসানোসহ হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করে। পরে এলাকায় টিকতে না পেয়ে আমি আমার ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। জীবিকার তাগিদে গার্মেন্টেসে চাকুরী শুরু করি। আমার ছেলে প্রকৌশলী বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করেছে। আমরা বাড়িতে না থাকার সুবাদে নাজমুল সরদার ও তার ভাই এরশাদ সরদার সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে বিভিন্ন সময় আমাদের বসতভিটা দখল করে রাস্তা বানানোর পাঁয়তারা চালিয়েছেন। সেই সময় আমি বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে বসতভিটা রক্ষা করেছি। বর্তমানে তারা আবারও দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ গত ২ এপ্রিল নাজমুল সরদার ও তার ভাই এরশাদ সরদার তাদের সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে পূনরায় রাতের অন্ধকারে আমাদের জায়গার মধ্যে ৬ ফুট প্রশস্ত ইটের সলিংয়ের রাস্তা নির্মান শুরু করেন। শুধু এতে তারা ক্ষ্যান্ত না হয়ে নাজমুল সরদারের ভাই এরশাদ সরদার বাদী হয়ে উল্টো আমাদের বিরেুদ্ধে থানায় ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দিয়েছে। তাদের অব্যাহত হামলা, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনে আমরা গোটা পরিবারসহ আশপাশের হিন্দু পরিবার গুলো ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ব্রহ্মগাতী গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি ভট্টাচার্য্য, ইতি ভট্টাচার্য্য, সুজাতা তরফদার, অনিতা বিশ্বাস, শেফালী রায়, পূরবী তরফদার, ঝর্ণা রায় ও নাছরিন আক্তার।
এ ব্যাপারে নাজমুল সরদার জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তুষার বৈরাগী ওই জায়গা মলয় মজুমদারের নিকট বিক্রি করেন। মলয়ের জায়গাটি আমার স্ত্রী ক্রয় করে। পাশের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমি তুষার বৈরাগীর ছেলে ওয়াশিংটন বৈরাগীর কাছে রাস্তার দাবি করে আসছি। তারা আমাকে রাস্তা না দেওয়ার জন্য নানা তালবাহানা করছে। আমি তাদের রাস্তা বাবদ এক শতক জায়গার দাম দিতে রাজি আছি। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-অভিযোগ করেও কোন সুরহা পায়নি। দীর্ঘ আট বছর ধরে ঘুরছি।’
তবে, চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জায়াগা নিয়ে বিরোধের জের ধরে উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে বলেছি। কিন্তু আমি আসার পর সরদার পক্ষ রাতের আধারে ইটের সলিং দিয়ে রাস্তা নির্মানের চেষ্টা চালায়। সে গুলো কল্যানী মন্ডল নিজেই তুলে ফেলেছেন। বিষয়টি আমার গুরুত্বের সাথে দেখছি।’
