Logo
table-post
চিতলমারীতে সংঘর্ষে নিহত ১, ৩০ বাড়িতে আগুন ও লুটপাট
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস গ্রæপ ও শেখ গ্রুপের মধ্যে ৪ঘন্টা ধরে দফায় দফায় চলা ব্যাপক সংঘর্ষে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হয়েছে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি। সংঘর্ষ চলাকালে রাজিব শেখ (২০) নামের এক যুবক নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। নিহত রাজিব শেখ উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৪ঘন্টা ধরে দুই গ্রæপের তান্ডবে চরম অবস্থা বিরাজ করায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। একই ভাবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারেনি। পরে রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছালে দুই গ্রুপই রণে ভঙ্গ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এখনো পরিস্থিতি উতপ্ত থাকায় দুই গ্রæপের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ ও আবুল কালাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে চিংগড়িয়া গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জমি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। বিশ্বাস গ্রপের লোকজন বিএনপির সমর্থক হলেও শেখ গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগের সমর্থক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ গ্রুপের লোকজন জামায়াতের পক্ষ নেয়। নির্বাচনের পূর্বে গত ২৮ জানুয়ারি চিংগড়িয়া গ্রামের লিচুতলা এলাকায় শেখ গ্রুপের হামলায় বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন নামে একজন মারা যান। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উভয় গ্রুপের মধ্যে চিংগড়িয়া গ্রামের সংঘর্ষে শেখ গ্রুপের রাজিব শেখ নিহত হয়। রাজিব শেখ নিহতের পরপরই দফায় দফায় চলা ব্যাপক সংঘর্ষে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হয় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি। 

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারেনি। পুলিশও অসহায় হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছালে দুই গ্রুপই রণে ভঙ্গ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতেই এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনেক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং এ ঘটনায় রাজিব নামে এক যুবক নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। নিহত রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চললেও এঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। এখনো কোন মামলা হয়নি। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর  সদস্যরা মোতায়েন করা হয়েছে।
 

@bagerhat24.com