ঈদের আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছাই ৯ দোকান: কচুয়ায় ব্যবসায়ীদের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত অর্ধকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজের ওপারে মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভাতে যোগ দেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ৯টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
ঈদের ঠিক আগে এমন দুর্ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। অনেকের জন্য এই দোকানই ছিল জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।
পুড়ে যাওয়া একটি চায়ের দোকানের মালিক সোহাগ মাঝি জানান, ঋণ ও ধার করে তিনি তার ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। ঈদকে সামনে রেখে নতুন পণ্য ও দুটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আগুনে সব হারিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
অন্যদিকে ‘মীম এ্যান্ড মুন’ নামের একটি সারের দোকানের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, লন্ড্রি, সেলুনসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পুড়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এছাড়া সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা প্রদানের কথাও জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
