মোংলায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ২১ জন আহত, আশঙ্কাজনক ২ জন খুলনায়
01/01/1970 12:00:00মোংলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কানাইনগর এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বিঘা আয়তনের একটি চিংড়ি ঘেরের মালিকানা ও লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমিটির মালিক হিসেবে সেলিম রেজা বাচ্চু ও মৃণাল নামের দুইজনের নাম উল্লেখ করা হলেও লিজ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
২০২৫ সালে মো. সেলিম হাওলাদার ঘেরটি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন। তবে পরবর্তীতে হিসাব-নিকাশ নিয়ে তার সঙ্গে মালিক পক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের বকেয়া মেটানো ছাড়াই ২০২৬ সালে ঘেরটি জাকির গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে করে পূর্বের লিজগ্রহীতা ও নতুন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে।
বুধবার দুপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেলিম হাওলাদারের সমর্থক রশিদ গ্রুপ এবং জাকির গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে রশিদ গ্রুপের অন্তত ১১ জন আহত হন। অন্যদিকে জাকির গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, এক পক্ষের অভিযোগ—জাকির স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তার সমর্থকরাই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অপর পক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, দুপুরের পর থেকে একাধিক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনার পেছনে জমির মালিকদের ভূমিকা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর পুরো কানাইনগর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে মোংলা এলাকায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে একাধিক সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
