Logo
table-post
শরনখোলায় ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, ৩ জামায়াত কর্মী গ্রেফতার
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার               
শরনখোলা উপজেলায় জামায়াত কর্মীরা পিটুনিতে সাইথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩২) নিহত হয়েছে। রবিবার (১লা মার্চ) রাত ১১টার দিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থক আহত হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডের পর শরণখোলা উপজেলাজুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের মরদের ময়না তদন্ত সোমবার দুপুরে জেলা হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। 

নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার সাইথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের প্রয়াত বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে ও সাউথখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রদল নেতা মাসুম মালয়েশিয়া চলে যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপির পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে আসেন।  

এঘটনায় নিহত ভাই শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রবিবার দিবাগত রাতেই অভিযান চালিয়ে এঘটনায় ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত খলিল বয়াতী, তানজের বয়াতী ও শাহজালাল বয়াতী নামের এই তিনজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। 

নিহত ছাত্রদল নেতার পরিবারের দাবি, স্থানীয় জামায়াত-শিবিেিরর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফুল ইসলাম মাসুমের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় (রাত সাড়ে ১১টার) মাসুম তার শশুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। তার ডাকচিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। 

এব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন জানান, বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় একাধি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর এবং বিএনপি অফিস আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে তারা। নির্বাচনের পরের দিন নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম তার মোবাইলে একটি সহিংস ঘহটনার ভিডিও ধারণ করায় তার ওপর ক্ষীপ্ত ছিল জামায়া-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তরাই জের ধরে এই নৃসংশ হত্যাকাÐ ঘটিয়েছে জামায়াত ও শিবির। হত্যাকাÐে জড়িত জামায়াত ও শিবির কর্মীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নিহতের পরিবার ও বিএনপির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট, তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে জামায়াতের উপর ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছেন। 

শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম বলেন, ছাত্রদল নেতা মাসুমকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে বেডে পাঠানো হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, গত ১২ ফেব্রæয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল নেতা মাসুম মোবাইল ফোনে ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের সাথে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের সাউথখালী ইউনিয়নের মডেল বাজারে জামায়াত কর্মীদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা মাসুম ও সাগর হাওলাদার নামে আরো এক বিএনপি সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা ভর্তি করার পর মাসুম মারা যায়। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতের তিনকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় এই তিনজন এজাহারনামীয় আসামী। সোমবার দুপুরে নিহতের ময়না তদন্ত বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। 
 

@bagerhat24.com