শরণখোলায় অতর্কিত হামলায় প্রবাসী বিএনপি সমর্থক নিহত, অভিযোগ জামায়াত সমর্থকদের বিরুদ্ধে
01/01/1970 12:00:00মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা
শরণখোলায় নির্বাচন পরবর্তী মারামারির ভিডিও ধারণ করার জেরে জামায়াত সমর্থকদের হামলায় আরিফুল ইসলাম মাসুম (৩০) নামে মালয়েশিয়া প্রবাসী এক বিএনপি সমর্থক নিহত হয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর খুড়িয়াখালী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম উপজেলার খুড়িয়াখালি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারসূত্রে জানা যায়, ১২ ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারী তারিখে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটলে নিহত আরিফুল ইসলাম সেই ঘটনার একটি ভিডিও তার মোবাইলে ধারণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত ভিডিও ডিলেট করতে নিহত মাসুমকে চাপ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয় জামায়াত সমর্থকদের পক্ষ থেকে। কিন্তু নিহত মাসুম হুমকি উপেক্ষা না করে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছিলো। ১ মার্চ রাতে আরিফুল ইসলাম মাসুম রাত ৮টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্বে ওৎ পেতে থাকা স্থানীয় জামায়াত সমর্থক আফজাল বয়াতি, ইদরিছ হাওলাদার ও বারেক শরীফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাকে গতিরোধ করে মারধর করে। এতে গুরুতর জখম হয় মাসুম ও তার স্ত্রী।
সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, তারাবির নামাজের পরে মাসুমকে জামায়াতের কর্মীরা মারধর করে আটকে রেখেছে এমন খবর পাই। পরে স্থানীয় তাফালবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও স্থানীয় সাউথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে যাওয়ার পর আহত মাসুমের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে ওই এলাকায় তাদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। জামায়াত ও বিএনপির উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। ওই ঘটনার জের ধরে জামায়াত সমর্থকরা মাসুমকে ধরে মারধর করে। তিনি এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সাউথখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসাইন বলেন, আফজাল বয়াতি ও বারেক শরীফ জামায়াতের সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নয়। কেউ কেউ বলে তারা আওয়ামী লীগের কর্মী ছিল।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামিনুল হক জানান, হামলার খবর জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে হামলায় মাসুম নামের এক মালয়েশিয়া প্রবাসী মারা গেছে। মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। মায়াতদন্ত রিপোর্টে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবার ও রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘটনের মধ্য দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
