Logo
table-post
অপহৃত ২০ জেলের সন্ধান নেই, বনদস্যু ভয়ে দুবলারচরে ১০ হাজার জেলের মাছ ধরা বন্ধ
01/01/1970 12:00:00

মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা

বনদস্যু আতংকে দুবলারচরের দশ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দু,দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশংকায় রয়েছেন।

সভাপতি দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতংকে দুবলার দশ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার (১৭ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছে এবং মৌসুমের শেষে এসে তারা কি নিয়ে বাড়ি যাবেন সে চিন্তায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেনা তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইনশৃংখলা বাহিনীর কোন তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিলো "জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ" এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত"। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুদিনেও ঐ ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে মোতাসিম ফরাজী জানান।

শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বলেন, শেলারচরের বিভিন্ন জেলের কাছে মোবাইল ফোনে বনদস্যুরা জেলে ঘর প্রতি ১ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবী করেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতংকে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশংকা রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতংকে তাদের ষ্টেশন অফিস থেকে কোন জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেননা যে কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরণের প্রভাব পড়ছে বলে ঐ ষ্টেশন কর্মকর্তা জানান।

সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানী বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বলে এসিএফ জানান।

@bagerhat24.com