বাগেরহাটে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ:৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটে কানাডার ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল মতিন বাদশা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মতিন বাদশা জানান, ২০২৩ সালে তৎকালীন ১৪ দলীয় জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হন এবং নানা ধরনের হয়রানি ও চাপের শিকার হন। নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কানাডা যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সিংড়ে গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ সিকদার–এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রাথমিকভাবে তাকে ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরে বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব শাখার সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত বাগেরহাট–২ আসনের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ–এর ঘনিষ্ঠ সহকারী সাইফুল চৌধুরীর পরামর্শে আরও কয়েকজন আগ্রহী ব্যক্তিকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।
দলীয় পরিচয় ও নেতৃত্বের সম্পৃক্ততার কারণে কোনো ধরনের প্রতারণা হতে পারে না—এমন বিশ্বাস থেকেই মোট ১১ জনের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো অর্থ লেনদেনের বিষয়টি শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের অবগতিতেই সম্পন্ন হয়। এমনকি সর্বশেষ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরাসরি তার মাধ্যমেই দেওয়া হয়।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কারও ভিসা হয়নি। একের পর এক তারিখ পরিবর্তন, আশ্বাস ও সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের হাতে জাল ভিসা তুলে দিয়ে প্রতারণা করা হয় বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মতিন বাদশা।
তিনি আরও জানান, টাকা ফেরতের আশায় বারবার শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি চরম অসহায় অবস্থায় কান্নাকাটি করেও কোনো প্রতিকার পাননি। প্রতারণার শিকারদের মধ্যে তার আপন ভগ্নিপতির ছেলে মুজাহিদুল ইসলামও রয়েছেন। তার পিতা আবুল কালাম আজাদ অর্থ ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে দুরারোগ্য স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নেতাকে জানানো হলেও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মতিন বাদশা বলেন, “ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের আশায় আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমরা সেই ইনসাফ থেকে বঞ্চিত। দলীয় শৃঙ্খলা ও সম্মানের কথা ভেবে দীর্ঘদিন চুপ ছিলাম। এখন আমরা নিঃস্ব ও অসহায়। তাই বাধ্য হয়েই গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছি।”
তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত প্রদান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
