বাগেরহাট-৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে: বিএনপি–জামায়াত–স্বতন্ত্র প্রার্থীদের টানটান সমীকরণ
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা এবং মোরেলগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনটি এবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অবকাঠামো, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে এ এলাকার ভোটাররা বরাবরই সক্রিয়। অতীতে এই আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে। অন্যদিকে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিপন জানান, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার মতে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী একজন ফ্যাসিস্ট ঘরানার হওয়ায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি। জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতে জোট ও একক নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের ভালো ফল রয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বল প্রার্থীর কারণে এবার দাড়িপাল্লার জয় অনেকটাই নিশ্চিত।
তবে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে এসব দাবি নাকচ করে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বেশি। ইনশাআল্লাহ, জয় আমাদেরই হবে।”
এছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মো. আ. লতিফ খান এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে সাজন কুমার মিস্ত্রি নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারাও ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
