Logo
table-post
৫ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে তোলপাড়, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের দাবি নাকচ করলেন বাগেরহাটের জেল সুপার
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার খোন্দকার মো. আল-মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছে, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও কারা-অপরাধের কারণেই তাকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে সাদ্দাম অভিযোগ করেন, বাগেরহাট কারাগারে অবস্থান করতে হলে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। দাবি পূরণ করতে না পারায় তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

সাদ্দামের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার আচরণগত সমস্যার কারণেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখানে আর কোনো কারণ নেই।”

কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, বন্দী অবস্থায় সাদ্দাম একাধিকবার কারা বিধি ভঙ্গ করেন। গত বছরের ১২ মার্চ তিনি এক সেল ইনচার্জকে হুমকি ও গালাগাল করেন এবং ৬ জুলাই অপর এক বন্দীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে অন্য কারাগারে পাঠানো হয়।

জেল সুপার আরও জানান, “জেল সুপার এককভাবে কাউকে অন্য কারাগারে পাঠাতে পারেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই হয়। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় নিয়মিত কারারক্ষী ও সহবন্দীদের ভয়ভীতি দেখাতেন।”

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২২ জুলাই প্রশাসনিক কারণে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ও তাদের ৯ মাস বয়সী সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার হয়। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়ে ২৮ জানুয়ারি রাতে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

@bagerhat24.com