Logo
table-post
লাভের মুখ দেখছে আখ চাষ, প্রণোদনা পেলে বদলে যেতে পারে বাগেরহাটের কৃষকের ভবিষ্যৎ
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভের সম্ভাবনায় বাগেরহাটে আবারও আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি প্রণোদনার অভাব—সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও চলতি মৌসুমে ভালো ফলন ও ন্যায্য দামে আখ বিক্রি করে স্বস্তি ফিরেছে অনেক চাষির মুখে। বাজারে আখের কেনাবেচা ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

ফুলতলা গ্রামের কৃষক রুবেল শেখ জানান, গত বছর প্রথমবার আখ চাষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও হাল ছাড়েননি। ধার করে চলতি বছর ১০ কাঠা জমিতে আখ আবাদ করে তিনি এবার ৭০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছেন। তবে আগের ক্ষতির ঋণ এখনো দুশ্চিন্তার কারণ বলে জানান তিনি।

কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে হাটের দিনগুলোতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ট্রাকে করে আখ নিয়ে হাজির হন কৃষকেরা। বাজার সমিতির হিসাব অনুযায়ী, সপ্তাহের দুই হাটে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার আখ কেনাবেচা হয়। আকার ও মানভেদে প্রতি ১০০ আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায়।

আখ চাষি ওমর শেখ বলেন, সার ও ওষুধের খরচ দিন দিন বাড়লেও এবছর ফলন ভালো হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারা জানান, বাধাল বাজারের আখ মানসম্মত হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও তারা এখানে আখ কিনতে আসেন।

বাজার ইজারাদার খান শহিদুজ্জামান মিল্টন জানান, কম খাজনা ও ভালো নিরাপত্তার কারণে এ বাজারে আখের বেচাকেনা ক্রমেই বাড়ছে। এখান থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় আখ সরবরাহ হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাগেরহাটে প্রায় ৭৫০ একর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনা চালু হলে আবাদ আরও বাড়বে। আখ থেকেই গুড় ও চিনি উৎপাদন সম্ভব—যা আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। প্রণোদনা পেলে কৃষকরা ঝুঁকি ছাড়াই আখ চাষে আরও উৎসাহী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

@bagerhat24.com