শুক্রবার চিতলমারীর দুই শতাধিক স্থানে সরস্বতী পুজো
01/01/1970 12:00:00চিতলমারী প্রতিনিধি
শুক্রবার বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় দুই শতাধিক স্থানে সরস্বতি পুজো অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য দেবী সরস্বতী’র আরাধনায় বিভিন্ন মন্ডপ, সংঘ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে। পুজোকে ঘিরে ভক্তরা বিভিন্ন মন্ডপ ও স্থানে আলোকসজ্জ্বায় সজ্জিত করেছেন। আয়োজন করা হয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
সরস্বতী পুজো উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) সকাল থেকে চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরস্বতী’র মুর্তি (প্রতিমা) আনা হয় বিক্রির জন্য। প্রকার ভেদে প্রতিটি মুর্তি ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে। মুর্তির সাথে বিক্রি করা হয় পুজোর নানা রকম উপকরণ। সকাল থেকে দোকান গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপচে পড়া ভিড় লেগেছিল।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, বিদ্যা ও জ্ঞান এবং সঙ্গীতের দেবী সরস্বতী। দেবী শ্বেতপদ্মে উপবেশিত, তাঁর এক হাতে পুস্তক, অন্য হাতে বীণা। হাতে বীণা থাকার কারণে দেবীকে বীণাপাণি বলা হয়। বসন্ত পঞ্চমীতে অভ্র, আবির, আমের মুকুল, যবের শীষ এবং দোয়াত-কলম সহযোগে দেবী সরস্বতীর পুজো করা হয়।
শাস্ত্রমতে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় সরস্বতী পুজো। বসন্ত পঞ্চমীর শুভ তিথিতে দেবীর আরাধনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা, এ উপজেলায় ১১১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৬টি কিন্ডারগার্টেন, ৩২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪ টি কলেজ রয়েছে। আর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই সরস্বতী পুজো উদযাপিত হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সংঘ ও মন্দিরের আয়োজনে জাকজমকপূর্ণ ভাবে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সম্পূর্ণা, আরাধ্য হুই, সেজুতি মন্ডল ও পরিধি কর জানায়, বছরের এ দিনটির জন্য তারা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে। দিনটি ঘিরে তাদের নানা আনন্দ উৎসব বিরাজ করে।
সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যানী রানী বাড়ই ও দড়িউমাজুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা হাজরা জানান, পুজোকে ঘিরে সকল কেনাকাটা শেষ। এখন প্রতিমা স্থাপন ও অন্যান্য কাজের আয়োজন চলছে। রাত পোহালেই পুজো।
চিতলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস জানান, সরস্বতী পুজো মূলত শিক্ষার্থী কেন্দ্রীক। উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুজো অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিভিন্ন সংঘ, মন্দির ও পারিবারিক ভাবে কমপক্ষে দুই শতাধিক স্থানে সরস্বতি পুজো অনুষ্ঠিত হবে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর উপজেলার ২০০ স্থানে সরস্বতী পুজো হবে বলে জানতে পেরেছি। শান্তিপূর্ণ ভাবে পুজো উদযাপনের জন্য সার্বিক ভাবে খোঁজ-খবর রাখছি।’
