Logo
table-post
বাগেরহাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা: দুই সহোদরসহ পাঁচজন রক্তাক্ত
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নে পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই সহোদর ভাইসহ মোট পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার ১০ নম্বর ডেমা ইউনিয়নের খেগড়াঘাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— অহিদুল মোল্লা (৪৪), তার ছোট ভাই মহিদুল মোল্লা (৩৬), চা দোকানি জুয়েল মল্লিক, পথচারী সুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লা। গুরুতর আহত অবস্থায় অহিদুল ও মহিদুলকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের পিতা হাসমত মোল্লা (৭০) বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অহিদুল ও মহিদুল খেগড়াঘাট এলাকায় একটি চা দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুরাদ মল্লিক, এরশাদ শেখ, শুকুর আলী শেখ ও আদম আলী শেখসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রসহ একটি পিকআপ ভ্যানে করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা দা, রামদা, হাতুড়ি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই ভাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রাণ বাঁচাতে দুই ভাই চা দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা দোকানের ভেতর ঢুকে মহিদুল মোল্লার মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিক কোপ দেয়। এতে তার মাথায় প্রায় ২০টি সেলাই দিতে হয়। অপরদিকে অহিদুল মোল্লার কপালে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার মাথায় চারটি সেলাই লাগে।

হামলা প্রতিহত করতে গেলে চা দোকানি জুয়েল মল্লিককে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার দাঁত ভেঙে যায় এবং মুখমণ্ডলে গুরুতর জখম হয়। এ সময় পথচারী সুমন মোল্লা ও তুহিন মোল্লাকেও মারধর করে আহত করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় মহিদুল মোল্লার কাছ থেকে একটি ভিভো ওয়াই-২১ মডেলের মোবাইল ফোন ও নগদ সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সুমন মোল্লার হাত থেকে একটি রুপার ব্রেসলেট লুট করা হয়।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার তরুণ ডাকুয়া বলেন, “আমরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমিজমা দখলের চেষ্টা চলছে। বাধা দিলে আমাদের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।”

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, খাল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মারামারির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

@bagerhat24.com