আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির টিকিট! বাগেরহাটে ‘হঠাৎ আগন্তুক’ প্রার্থীতে ফুঁসছে তৃণমূল
01/01/1970 12:00:00স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মুখে রাজপথে টিকে থাকা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বাগেরহাটে সদ্য দলবদল করা সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে এমন সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগেও যারা আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ও সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই এখন ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে নির্বাচনের মাঠে। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক এবং অতীতে চিতলমারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। একসময় জাতীয় পার্টি, পরে আওয়ামী লীগ এবং সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
এই দুই প্রার্থীর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ফেসবুকে চিতলমারীর এক বাসিন্দা লেখেন, “১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ আসা লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা চরম হতাশ।” একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আরও অনেকে, কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও তুলেছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছু করার নেই। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছি।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এটি মেনে নিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা আজ অবহেলিত।
অন্যদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত কপিল কৃষ্ণ মন্ডল দাবি করেন, তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমনাথ দে বলেন, যারা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তারাই তার মনোনয়নে ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সাবেক সভাপতি এম এ সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—দাবি না মানা হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।
