Logo
table-post
বাগেরহাটে ভুয়া কাগজে নামজারি: বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মৎস্য খামার দখলের অভিযোগ
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জাল ও ভুয়া নথির মাধ্যমে জমির নামজারি করে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মৎস্য খামার দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আশিষ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের ভুক্তভোগী মঞ্জুর হোসেন শিকদার গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের জমির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগে মঞ্জুর শিকদার জানান, সন্তোষপুর গ্রামের গনেশ চন্দ্র হালদার এবং তার চার পুত্র আশিষ কুমার হালদার, বিকাশ হালদার, সুভাষ হালদার ও দিবস ওরফে রাজা হালদার দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের দ্বিতীয় সাব–জজ আদালতে চুক্তিপত্র বলবৎ করার দাবিতে দেওয়ানি মামলা (৪৫/৯৬) দায়ের করা হয়। আদালত ৩-৮ বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে দোতরফাসূত্রে ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষরা উচ্চ আদালতে আপিল (৪৬৪/২০০০) করে রায় পান। তার বিপরীতে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে সিভিল পিটিশন (২০১৮/২০২৪) বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এবং দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভোগদখলীয় বাস্তবতা উপেক্ষা করে আশিষ কুমার হালদার ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো তদন্ত ছাড়াই গোপনে জালিয়াতি নথি ব্যবহার করে ২.০৯ একরসহ মোট ৪.১৮ একর জমি নিজের নামে নামজারি করে নেন। এরপর থেকেই ওই সম্পত্তি বিক্রির তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি, যা আদালত ও আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা।

মঞ্জুর শিকদার অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষদের জমি দখলের এ অপচেষ্টা এলাকাজুড়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে। এমনকি হিন্দু–মুসলিম বিভেদ তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যও তার দাবিকে সমর্থন করে। স্থানীয় বাসিন্দা অজিত বালা বলেন, “প্রায় ২০–৩০ বছর ধরে মঞ্জুর শিকদার পরিবারকে আমরা এখানে বসবাস করতে দেখছি। ঘরবাড়ি, ব্যবসা, সবকিছু তারা করে আসছে বৈধভাবেই।”

আরেক বাসিন্দা শিশির হালদার জানান, “গনেশ হালদারের কাছ থেকে বেশ আগেই মঞ্জুর শিকদার জমিটি কিনেছেন। তারপর থেকেই উনারা ঘের করেছেন, গাছ লাগিয়েছেন— সন্তানরাও এখানে বড় হয়েছে।”

৭নং সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিরমল মণ্ডল জানান, “মঞ্জুর শিকদার এলাকায় সুনামধন্য ব্যক্তি। বহু বছর ধরে তিনি জমিতে বৈধভাবে বসবাস করছেন বলে আমি জানি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

@bagerhat24.com