Logo
table-post
৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ
01/01/1970 12:00:00

স্টাফ রিপোর্টার

আজ ৭ ডিসেম্বর। মোংলা ও সুন্দরবন মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হারিয়ে এই অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করেন।

মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ জানান, মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম.এ. জলিল, সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও কবির আহমেদ মধুর নেতৃত্বে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন এলাকা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

সেই সময়ে সুন্দরবনে স্থাপিত পাঁচটি ক্যাম্পে সেনা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা মোংলা, মোড়লগঞ্জ, রামপাল, শরণখোলা ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতেন। এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে থাকা পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ "এম.ভি মাকরন" ধ্বংস করা হয় মুক্তি নৌ কমান্ডের সদস্যদের মাধ্যমে।

আবুল হাসেম শেখ আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা এই অঞ্চলের নিরীহ মানুষদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। দামেরখন্ড ও রামপালের ডাকরার বধ্যভূমি আজও সেই ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমাত্রিক পরিকল্পিত আক্রমণে পাক সেনারা পশুর নদীতে মাইন বসিয়ে যুদ্ধজাহাজ মাকরন ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই ৭ ডিসেম্বর মোংলা ও সুন্দরবন পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।”

স্বাধীনতার পরে মোংলা পোর্ট পৌরসভা পৌর পার্কে নির্মিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে যুদ্ধজাহাজসহ বিজয় স্তম্ভও আছে।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের মোট ২৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

 

@bagerhat24.com